মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ এবং লকডাউনের থাবায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে স্থানীয় জাতের উত্পাদিত কাঁঠালের দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন এলাকার কাঁঠাল চাষিরা। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার ও ক্রেতারা না আসার কারণে মির্জাপুর উপজেলার হাটবাজারে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে একেবারেই পানির দরে। সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে কাঁঠাল সংগ্রহের জন্য কোনো হিমাগার গড়ে না ওঠায় সংরক্ষণের অভাবে হাজার হাজার টন কাঁঠাল পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে এলাকার প্রান্তিক কাঁঠাল চাষিরা কাঁঠালের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানান। বুধবার উপজেলার সর্ববৃহত্ কাঁঠালের হাট বাঁশতৈল ও তক্তার চালা বাজারের বৃহত্ কাঁঠালের হাট ছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত কৃষক কাঁঠাল বিক্রির জন্য বাজারে এসেছিলেন। পাইকার ও ক্রেতার দেখা না পেয়ে চাষিরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে বাড়ি চলে গেছেন। জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মির্জাপুর উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে বলে কাঁঠাল চাষিরা জানায়। উপজেলার গোড়াই, আজগানা, তরফপুর, লতিফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নে পাহাড়ি এলাকায় সর্বাধিক কাঁঠাল হয়েছে। বাঁশতৈল এলাকার পারভেজ মিয়া (৪০), মনির হোসেন (৫৫) ও আজগানা ইউনিয়নের জামাল উদ্দিন (৫০) সহ অনেকেই অভিযোগ করেন, গত বছর যে কাঁঠাল ২০০/১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এ বছর সেই কাঁঠাল ৪০/৪৫ টাকাও বিক্রি করতে পারছে না। বড় সাইজের কাঁঠাল ৩০/৪০ টাকা, মাঝারি সাইজের কাঁঠাল ২০/২৫ টাকা এবং ছোট সাইজের কাঁঠার ৫/১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মির্জাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ মশিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে দেশে করোনা ভাইরাস এবং লগডাউন চলার কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারদের আসতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে কাঁঠাল নিয়ে চাষিরা একটু সমস্যায় পড়েছেন।