নদনদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্যার প্রাবল্যও বাড়ছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে। বাড়ছে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। বন্যার পাশাপাশি কিছু কিছু এলাকায় নদীভাঙনও দেখা দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেলে ধরলা নদীর পানি বিপত্সীমার ৭১ সেন্টিমিটার এবং ব্রহ্মপূত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৭২ সেন্টিমিটার ও নুন খাওয়া পয়েন্টে বিপত্সীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলার চিলমারী, উলিপুর, কুড়িগ্রাম সদর, রৌমারী, রাজীবপুর, নাগেশ্বরীসহ আট উপজেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। রবিবার সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বসতবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। প্রায় ১৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘাঘট নদীর পানির চাপে শহররক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপত্সীমার ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাট, ভুট্টা, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনা সদর, বারহাট্টা ও কলমাকান্দা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আমন বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। কলমাকান্দা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আমন বীজতলা, কাঁচা রাস্তাঘাট, গাছপালা, ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় পাঁচ শতাধিক পুকুর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পুকুরের মাছ বেরিয়ে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক ও মত্স্যচাষিরা। নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে যাতে কৃষকদের আমন বীজতলার ক্ষতি না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জৈন্তাপুর (সিলেট) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার সব কটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। সারী ও বড়গাং নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার ফারুক হোসেন জানান, ৩৫০ হেক্টর আউস ধানখেত বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। রবিবার দুপুরে সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপত্সীমার ৬৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং যাদুকাটার পানি বিপত্সীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দোয়ারা, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। লোকজন জ্বালানি, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে।
ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, পৌরসভাসহ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলার অনেক রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মত্স্য খামার। শনিবার রাত থেকে ছাতকের সঙ্গে জেলা সদরসহ দেশের সব অঞ্চলের সড়কযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে বেশ কিছু খামারের মাছ। সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক জানান, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকার সহায়তা করবে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া রাস্তাঘাট দ্রুত সংস্কার করা হবে।
গঙ্গাচড়া তিস্তার ভাঙনে গুচ্ছগ্রামের
বাড়িঘর বিলীন
গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙনে গত কয়েক দিনে শংকরদহ গুচ্ছগ্রামের ১০ পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, এই মুহূর্তে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে গুচ্ছগ্রামটি তিস্তায় পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।
ভেড়ামারায় ভাঙন
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা জানান, পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্ট ও তার শাখা গড়াই নদীতে পানি বাড়ার কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে ভেড়ামারার ঢাকাপাড়া ও তালবাড়িয়া এলাকায়। তালবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান বলেন, তালবাড়িয়ার বাঁধের পাশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।