করোনায় মৃত ব্যক্তিদের প্রতি অমানবিক আচরণ না করার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। পাশাপাশি যারা করোনায় মৃত ব্যক্তির সত্কার করছেন, তাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। গতকাল রবিবার দুপুরে নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা আরো বলেন, প্রত্যেক মরদেহের প্রতিই আমাদের সম্মান জানানো উচিত। সঠিকভাবে তাদের দাফন বা সত্কার করা দরকার। সেজন্য একজন মানুষ মারা গেলে যথাযথভাবে যাতে সত্কার হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সাহায্য করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
এদিকে একদিনে আরো ৪৩ জনের মৃত্যুর মধ্যদিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭৩৮ জন। শনিবার ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ হাজার ৯৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ হাজার ৮০৯ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দেশে বর্তমানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮৭ জন। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪০৯ জন। শনিবারের চেয়ে গতকাল ২২৪ জন বেশি সুস্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৫৫ হাজার ৭২৭ জন। তিনি জানান, গতকাল শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৩৪টি। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৭ লাখ ৩০ হাজার ১৯৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, নতুন করে যে ৪৩ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ২৯ ও নারী ১৪ জন। তাদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১-৩০ বছর বয়সি দুই জন, ৩১-৪০ বছর বয়সি একজন, ৪১-৫০ বছর বয়সি সাত জন, ৫১-৬০ বছর বয়সি ১৩ জন, ৬১-৭০ বছর বয়সি ১২ জন এবং ৭১ থেকে ৮০ বছরের সাত জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের একজন। এর মধ্যে ২১ জন ঢাকা বিভাগের, ১০ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, খুলনা বিভাগে তিন জন, রাজশাহী বিভাগে দুই জন, সিলেট বিভাগে তিন জন, রংপুরে বিভাগে একজন, বরিশাল বিভাগে দুই জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন। হাসপাতালে ৩০ জন, বাড়িতে ১২ জন এবং বাসায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।
অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ৭১৭ জনকে। এ সময়ে ছাড় পেয়েছেন ৪৬১ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ১৪ হাজার ৫২৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৯০ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৪০৫ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬৪ হাজার ৫৯৮ জন।