মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রবীণ আইনজীবী আক্রামুজ্জামান (৭৫) আর নেই। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে গতকাল রবিবার ভোরে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে, ১ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ সোমবার বাদ আসর ফেনী সদরের মোটবী ইউনিয়নে নিজ গ্রামে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে।
গত ১৫ জুন থেকে জ্বর-কাশিসহ অসুস্থতা বোধ করলে বাসায় চিকিত্সা নিচ্ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯ জুন শুক্রবার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি আইসিইউতে চিকিত্সাধীন ছিলেন। এর আগে ফেনীতে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এলেও এখানে তার করোনা পজিটিভ আসে। গত দুইদিন শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়া হয়। পরে গতকাল ভোরে তিনি মারা যান।
প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আক্রামুজ্জামানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এক শোক বার্তায় বলেন, আক্রামুজ্জামান গণমানুষের নেতা হিসেবে জনগণের হূদয়ে বেঁচে থাকবেন। তিনি মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা এবং তার শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপিও গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ফেনী-২ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী।
অ্যাডভোকেট আক্রামুজ্জামান ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালের সভাপতি ও ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও তিনি জেলা রোটারি ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে তিনি স্বাধীনতার পর ন্যাপের (মোজাফ্ফর) রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৯০ সালে আক্রামুজ্জামান আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তার মৃত্যুতে ফেনীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।