কুয়েতের দুই জন এমপির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলকে মানব পাচারে সহযোগিতা ও অর্থ পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। কুয়েতের আরবি পত্রিকা আল কাবাসের বরাত দিয়ে গালফ নিউজের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে দুই কুয়েতি এমপির নাম প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় পার্লামেন্টের ঐ দুই সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়। এ জন্য আইনপ্রণেতা হিসেবে তারা যে দায়মুক্তি সুবিধা পান, তা প্রত্যাহারে প্রসিকিউশন আবেদন করবে।
এদিকে সরকারি কৌঁসুলিদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুয়েতের সমাজ কল্যাণমন্ত্রী মরিয়ম আল আকিল এরই মধ্যে দেশটির জনশক্তি কর্তৃপক্ষের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে তিন মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করার আদেশ দিয়েছেন। খবরে বলা হয়েছে, মানব পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার আবেদন করেন সরকারি কৌঁসুলিরা। এ তদন্তের অংশ হিসেবে কুয়েতের জনশক্তি কর্তৃপক্ষের এক পরিচালককে এরই মধ্যে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তার রিমান্ডের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।
গত ৬ জুন মানব পাচার ও অর্থ পাচারের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী পাপুলকে গ্রেফতার করে কুয়েতের সিআইডির সদস্যরা। আটক করা হয়েছে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও তার ঘনিষ্ঠ মুর্তজা মামুনকে। এরই মধ্যে এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে কুয়েতের সরকারি কৌঁসুলিদের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১২ বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী। এছাড়া পাপুল নিজেও জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে, কুয়েতে তার ব্যবসা পরিচালনায় বিভিন্ন সময় সহায়তা করেছেন বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও নেতা।
জানা গেছে, পাপুলের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে কর্মী নিয়োগ, রেসিডেন্সি আইনের লঙ্ঘন ও ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ আনা হচ্ছে। আগামী ৬ জুলাই এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে কুয়েতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের কথা রয়েছে। এর আগ পর্যন্ত পাপুলকে কারাগারেই থাকতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে তার পাঁচ থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে বলে কুয়েতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে পাপুল ও তার কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ১৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা জব্দ করতে কুয়েতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে সরকারি কৌঁসুলিরা। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এমপি কাজী পাপুলের মদতদাতা হিসেবে কুয়েতের দুই জন বর্তমান এবং এক জন সাবেক এমপিসহ সাত জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তাদের কারো নাম প্রকাশ করা হয়নি।
এরই মধ্যে এমপি পাপুলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কুয়েতের এক নারী ব্যবসায়ীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির আদালত। পাপুলের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণকারী হিসেবে চিহ্নিত কুয়েতি কর্মকর্তাদের এক জন ঐ নারী ব্যবসায়ীর ভাই। ঐ কর্মকর্তাসহ তিন জনকে এর আগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশন টিম এমপি কাজী পাপুলের অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। যে তিন জনের চক্র এই মানব পাচার কার্যক্রম চালাতো এমপি পাপুল তাদের এক জন। বাকি দুই জন কুয়েত ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এদের মধ্যে এক জন কুয়েতি কর্মকর্তা রয়েছেন। যিনি কাজী পাপুলের কাছ থেকে ১০ লাখ দিনার (২৮ কোটি টাকা) এর চেক নিয়েছিলেন।