রাখাইন ও চিন রাজ্যে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর শুদ্ধি অভিযানের পরিকল্পনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মিয়ানমারে দায়িত্বরত পশ্চিমা কূটনীতিকেরা। মিয়ানমারে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার কূটনৈতিক মিশনের প্রধানরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা এ ধরনের শুদ্ধি অভিযানের ঐতিহাসিক প্রভাব সম্পর্কে অবগত, যা সামঞ্জস্যহীনভাবে বেসামরিক মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে ঐসব অঞ্চলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া উচিত এবং বেসামরিক মানুষের জীবন ও তাদের সম্পত্তি সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। বেসামরিক মানুষের সম্পত্তির ক্ষতি, অগ্নিসংযোগ, গোলাগুলি ও নিরীহ মানুষকে গ্রেফতারের বিষয়ে আমরা অবগত। অনতিবিলম্বে সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাই। এর আগে, গত ২৪ জুন এক নির্দেশনায় আরাকান বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে সামরিক বাহিনীকে ছাড়পত্র প্রদানের কথা জানায় রাখাইন রাজ্যের সুরক্ষা ও সীমান্তবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ‘শুদ্ধি অভিযানের’ পরিকল্পনা করেছে, স্থানীয় প্রশাসন বেশ কিছু গ্রামের প্রধানকে এমন সতর্কবার্তা দেওয়ার পর রাখাইন রাজ্যের হাজার হাজার গ্রামবাসী ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের একজন আইন প্রণেতা ও একটি মানবাধিকার গোষ্ঠীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, মানবাধিকার গোষ্ঠী রাখাইন অ্যাথনিক কংগ্রেসের সম্পাদক জ জ হতুন জানিয়েছেন, অন্তত ১ হাজার ৭০০ লোক পার্শ্ববর্তী পন্নাগিয়ুন পৌরসভায় পালিয়ে গেছে। তবে মিয়ানমার সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, সীমান্তবিষয়ক কর্মকর্তারা একটি উচ্ছেদ আদেশ জারি করলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাদের লক্ষ্য ছিল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বিতাড়ন। সেনাবাহিনীর বর্বরতা ও নৃশংসতার মুখে সে সময় রাখাইন ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা, যারা সে সময় বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়।