শত্রুদের যোগ্য জবাব দিতে জানি :মোদী

লাদাখে ভারতীয় ভূখণ্ডের দিকে যারা নজর দেওয়ার সাহস দেখিয়েছে, তাদের যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারত। কারণ শত্রুদের জবাব দিতে জানে দিল্লি। গতকাল রবিবার ‘মন কি বাতে’ অনুষ্ঠানে ভারত ও চীনের মধ্যে চলা সামপ্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে এসব কথা বললেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লাদাখে চীনা সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ভারতীয় জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি চীনকে ‘অর্থনৈতিক ধাক্কা’ দেওয়ার জন্য সাধুবাদ দেন তিনি। আত্মনির্ভর ভারত চীনা দ্রব্য বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান মোদী।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বন্ধুবত্সল জাতি। ভারত বন্ধুত্ব করতে ভালোবাসে। বন্ধুকে সম্মান দিতে ভালোবাসে। কিন্তু যখন কারো কাছ থেকে জাতীয় স্বার্থের উপর কিংবা সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত আসে তাকে প্রশ্রয় দেবে না। দেশের স্বার্থে আঘাত লাগলে কী ভাবে কারও সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়, উপযুক্ত জবাব দিতে হয়, সেটাও ভারত ভালো করে জানে।

সীমান্তের ভেতরে চীনা সেনা? : এদিকে, দিল্লি-বেইজিং সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই গালওয়ান এলাকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতের সীমানায় ঢুকে বসে আছে চীনের সেনারা! এমনকি তারা সেখানে নির্মাণকাজও চলমান রেখেছে। উপগ্রহ চিত্র থেকে এর প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছে ভারতের এনডিটিভি। গত ১৫ জুন এখানেই সংঘাতে জড়িয়েছিল দুই দেশের বাহিনী। সেই সংঘাতে ভারতের ২০ সেনা নিহত হয়। তারা স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত পেট্রলিং পয়েন্ট ১৪ এর চিত্র প্রকাশ করেছে।

এনডিটিভি জানায়, আন্তর্জাতিক স্তরেই স্বীকৃত আছে পেট্রলিং পয়েন্ট ১৪ হচ্ছে ভারতীয় ভূখণ্ড। অথচ উপগ্রহ চিত্রে চীনা সেনাদের উপস্থিতি ধরা পড়েছে সেখানে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দাদের দাবি, এই অনুপ্রবেশ গালোয়ান নদী বরাবর সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ১৩৭ মিটার। যে এলাকায় অনুপ্রবেশ চিহ্নিত হয়েছে, সেখানে গত এক দশক ধরে পেট্রলিং করে ভারতীয় বাহিনী। সেই সেক্টরে ৯ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ১৬টি শিবির চিহ্নিত করেছে উপগ্রহ চিত্র। ভারতের দাবি, সামরিক স্তরের আলোচনায় চীন বিতর্কিত এলাকা থেকে তাদের বাহিনী সরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটা খাতা-কলমে। শুধু তাই নয়, এলএসি বরাবর ব্যাপক সামরিক সম্ভারও বাড়াচ্ছে বেইজিং। উপগ্রহ চিত্র পর্যবেক্ষণ করে এমন দাবি করা হয়েছে। এদিকে, ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ সমরের সম্ভাবনা তৈরি করতে এই উদ্যোগ বলে দাবি করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তারা। গত ২২ জুন দুই দেশের লেফটান্যান্ট পদমর্যাদার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে দুটি দেশ সীমান্ত থেকে নিরাপদ দূরত্বে বাহিনী সরানোর পক্ষে সম্মতি দিয়েছিল।