অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নজর দেয়া প্রয়োজন

এমসিসিআই, ডিসিসিআই ও বিল্ডের যৌথ বিবৃতি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বাজেটে অর্থমন্ত্রীর আনা আয়কর ও ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো ব্যবসাবান্ধব নয় বলে মনে করছে ব্যবসায়ীদের দুই প্রভাবশালী সংগঠন ও একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। সংগঠনগুলো মনে করছে, তা রাজস্ববান্ধবও নয়। বরং তা অর্থনীতিতে গতিসঞ্চালনকে বাধাগ্রস্ত করবে। সংগঠনগুলো এসব ধারা বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে সরকারের কাছে। গতকাল অর্থবিল পাসের প্রাক্কালে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) ও গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) যৌথভাবে ঐ বিবৃতি দিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, কোভিড-১৯ মহামারি নীতিনির্ধারকদের সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ দাঁড় করিয়েছে। তা সত্ত্বেও এর থেকে উত্তরণের জন্য গতানুগতিক চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের দিকে সম্পূর্ণ মনযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কোনো অসাধু ব্যক্তি কোনো নীতিসহায়তার অপব্যবহার করবে, এই ভয় পরিত্যাগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। কেউ যদি অন্যায় সুবিধা নিতে চায়, তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে; কিন্তু বিপুল জনগোষ্ঠীর সত্ ব্যবসায়ীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত করলে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব দেশের উন্নয়নের ওপর পড়বে।

এতে বলা হয়, যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বর্তমান করোনা পরিস্থিতির দুঃসময়ের জন্যই নয়, সাধারণভাবেই ব্যবসায় পরিচালনায় জটিলতা বাড়াবে ও ব্যয়বৃদ্ধির কারণ হবে। এসব সিদ্ধান্ত রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে না, বরং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় জটিলতা সৃষ্টি করবে। বাজেটে আয়কর ও ভ্যাট বিষয়ে এ ধরনের বেশ কয়েকটি ধারা উল্লেখ করে ঐসব প্রস্তাব আইনে পরিণত না করার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে। অবশ্য এরই মধ্যে গতকাল জাতীয় সংসদে অর্থবিল পাশ হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের দাবির কিছু বিষয়ে ইতিবাচক সংশোধন আনা হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাবে কাঁচামাল ক্রয়ের সময় পরিশোধ করা ভ্যাটের রেয়াত চার মাসের মধ্যে নেওয়ার বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছিল। অর্থাত্ কাঁচামাল ক্রয়ের চার মাসের মধ্যে তা ব্যবহার করতে হবে, অন্যথায় রেয়াত নেওয়া যাবে না বলে প্রস্তাব আনা হয়েছিল। বিবৃতিতে এই বিধান প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এছাড়া আপিলের ভ্যাট দ্বিগুণ করা, টার্নওভারের (বার্ষিক বিক্রি) শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অনুমোদনযোগ্য বিজ্ঞাপন ব্যয়ের ওপর বিধিনিষেধসহ আয়করের কিছু বিষয়ে আপত্তির কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন এমসিসিআইর সভাপতি ব্যরিস্টার নিহাদ কবীর, ডিসিসিআইর সভাপতি শামস মাহমুদ ও বিল্ডের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম খান। এতে বলা হয়, ৬৬ দিনের কর্মবিরতির পর দেশের স্থানীয় ব্যবসাগুলোর বিক্রয় কমে গেছে ৩০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ। তারা শুধু কোনোরকমে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। আয় কমে যাওয়ায় অধিকাংশ ক্রেতাই কেবল খাদ্য ও ওষুধের মতো অত্যাবশ্যক নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যে ব্যয় সীমিত রেখেছে। এ পরিস্থিতিতে চাহিদা ও সরবরাহে প্রবৃদ্ধির জন্য অর্থনীতির সব খাতে অর্থসঞ্চালন করা ও নীতিসহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।