আশি-নব্বইয়ের দশকে ‘গেদু চাচা’ খ্যাত সিনিয়র সাংবাদিক, জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য ও ‘আজকের সূর্যোদয়’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা খোন্দকার মোজাম্মেল হক (৬৮) আর নেই। করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর এএমজেড হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল সোমবার তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহে...রাজিউন)। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, ভক্ত, সহকর্মী রেখে গেছেন। ১৯৫২ সালের ২৬ নভেম্বর ফেনীর ছাগলনাইয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
শ্বাসকষ্ট নিয়ে শনিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন খোন্দকার মোজাম্মেল হক। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাসার কাছে মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ছাগলনাইয়া গ্রামের বাড়িতে। সেখানে বিকাল ৫টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
খোন্দকার মোজাম্মেল হক কয়েক দশক ধরে গেদু চাচা নামে কলাম লিখতেন। আশির দশকে সাপ্তাহিক সুগন্ধা ও পরে নব্বইয়ের দশকে আজকের সূর্যোদয়ের সম্পাদক ছিলেন। ষাটের দশকে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছাত্রদের নিয়ে গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর শোক ঃ বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা খোন্দকার মোজাম্মেল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকতায় মোজাম্মেল হকের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
প্রেসক্লাবের শোক ঃ জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন এক বিবৃতিতে খোন্দকার মোজাম্মেল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।