বাজেট বাস্তবায়নে অতীতেও ব্যর্থ হইনি, ভবিষ্যতেও হব না

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নে আমরা অতীতে কখনো ব্যর্থ হইনি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হব না। আমরা হতাশায় ভুগি না। আমরা সব সময় একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়েই এগিয়ে যাই। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় কখনো কখনো পরিকল্পনা পুনর্নির্ধারণ করতে হয়। আশা করি আমরা বাজেট বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।’ গতকাল সোমবার সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

করোনা মহামারি-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষ হতে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামনে যে সংকটই আসুক না কেন, তা শক্তভাবে মোকাবিলা করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের মানুষকে অভুক্ত থাকতে             দেবে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের খাদ্যের চাহিদা হচ্ছে ৩ কোটি ৭৫ লাখ টন। উত্পাদন হয়েছে ৩ কোটি ৯৯ লাখ টন। আমি আগেই বলেছি, ২৫ কোটি টন আমাদের উদ্বৃত্ত রয়েছে এবং এই উত্পাদন আমরা অব্যাহত রাখব।’ করোনা ভাইরাস-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশে যেন খাদ্যের সংকট না হয়, সে জন্য এক ইঞ্চি কৃষিজমিও যেন অনাবাদি না থাকে, সেই নির্দেশনা দেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ মহাদুর্যোগের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি মহামন্দার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২০ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ সংকুচিত হবে মর্মে প্রাক্কলন দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা বাংলাদেশে একটি বাজেট প্রণয়ন করেছি। এই বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত কঠিন ও দুরূহ কাজ ছিল।’ তিনি বলেন, যতই বাধা আসুক, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। প্রতি বছর ২০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছে, তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সরকারের চ্যালেঞ্জ। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও কোভিড-১৯-এর একটা বিরূপ প্রভাব পড়েছে। সব বিবেচনায় নিয়ে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার যেটা আমাদের প্রাক্কলন ছিল, আমরা ৮ দশমিক ২ শতাংশ অর্জন করব আর প্রথম আট মাসে আমরা কিন্তু ৭ দশমিক ৮ শতাংশ অর্জন করেছিলাম। কিন্তু এই করোনার কারণে এবং সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেটা কমে যায় এবং বাধ্য হই এটাকে সংশোধন করতে, যেটা আমরা ৫ শমিক ২ শতাংশ ধার্য করেছি। আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রবৃদ্ধির হার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ।’

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছে, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছে এটাই চাই, করোনা নামের এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের হাত থেকে যেন আমাদের দেশবাসী এবং সারা বিশ্ববাসী মুক্তি পায়। যারা এখনো চিকিত্সাধীন আছেন, তারা যেন দ্রুত সুস্থতা পান সেই কামনা করি।’