করোনার অভিঘাতে যখন দুর্ভিক্ষের ঘনছায়া সারাদেশে, যখন খাদ্যাভাবে অসহায় নিরন্ন মানুষ হা-হুতাশ করছে, ঠিক তখন একেবারেই স্বল্প আয়ের পাটকল শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসমূহে ২৫ হাজার শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে বিদায়ের সরকারি সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না।
গতকাল সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একথা বলেন। রিজভী বলেন, ‘শ্রমিকদের বিদায় দেওয়ার সরকারের সিদ্ধান্ত গণবিরোধী। কর্তৃত্ববাদী সরকারের গণবিরোধী এ সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। পাটকল শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে আমরা এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসমূহের দুরবস্থার জন্য সরকারকে দায়ী করে রিজভী বলেন, সরকারের ভ্রান্তনীতি ও অব্যবস্থাপনায় দেশের ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্প আজ ধ্বংসের দ্বারাপ্রান্তে। দুর্নীতি, লুটপাট, ভুলনীতি এবং মাথাভারী ও অদক্ষ প্রশাসন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে লোকসানের জন্য দায়ী, শ্রমিকরা নয়। কারণ মৌসুমের জুলাই-আগস্ট মাসে পাটের দাম যখন ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা থাকে তখন পাট না কিনে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে যখন পাটের দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা টাকা হয় তখন পাট কেনা হয়। শুধু তাই নয়, চাহিদার চেয়ে কম পাট কেনা হয়।
তিনি আরো বলেন, করোনা সংক্রমণের এই দুর্যোগকালে এমনিতেই যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, বিদেশ থেকেও অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়ে দেশে ফিরছেন, সেই সংকটকালে ২৫টি রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদেশে পাটের বাজার খোঁজা, পণ্যের বহুমুখীকরণ ইত্যাদি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় এবং বিজেএমসির কাজ। লোকসানের দায় কোনোভাবে শ্রমিকরা নেবে না।