অতিথি পাখিদের বাঁচাতে হবে

একটু গরম পরিবেশ আর খাবারের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের দেশে অতিথি পাখিরা আসে। মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। মানুষ দলবেঁধে পাখি দেখতে যায়। অতিথি পাখিরা পরিবেশের উপকার করে। ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খায়। এদের ধরে বিক্রি করা হয়। ২০১২ সালে পাখিশিকার বন্ধে আইন পাস হয়। কিন্তু আইনের প্রয়োগ দেখা যায় না। এরই মধ্যে মত্স্য ভাণ্ডার চলনবিলে অতিথি পাখি ধরার ধুম পড়েছে। খোলাবাজারে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা দামে এসব পাখি বিক্রি হচ্ছে! যেসব স্পটে অতিথি পাখিরা আসে, সেখানেই শিকারিরা ওত পেতে থাকে। কেন্দ্রীয়ভাবে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়—অতিথি পাথি শিকারিদের ধরার জন্য। পত্রপত্রিকায় সংবাদ ছাপা হয়—কোথায় অতিথি পাথি শিকার হচ্ছে। পাখিকেন্দ্রিক সংগঠনগুলো র্যালি করে, স্মারকলিপি দেয় কর্তৃপক্ষকে। এত কিছুর পরেও অতিথি পাখি শিকার কমছে না কেন? অসময়ে যেমন ভোররাতে, খুব সকালে পাখি ধরার ফাঁদ পাতা হয়। সঙ্গত কারণেই এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোক পৌঁছতে পারেন না। হাটবাজারে যখন পাখি বিক্রি হয়—খবর পেয়ে যেতে যেতে পাখি-বিক্রেতারা পালিয়ে যায়। পাখিশিকারিদের ধরতে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে হবে। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের কাছে আমজনতা পরাজিত হতে পারে না। তাই যেসব এলাকায় অতিথি পাখি শিকার হয়, সেখানকার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্ব থানাপুলিশসহ স্থানীয় সকলকে নিয়ে কমিটি গঠন করে কাজ ভাগ করে দেওয়া হোক। অতিথি পাখি পরিবেশের শোভা, আসুন সবাই মিলে এদের রক্ষা করি।

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, মিরপুর ১২, ঢাকা