নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
মৌলভীবাজারের চা-বাগানসমূহে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন চায়ের শ্রমিকেরা। ভালো মানের পয়োনিষ্কাশনের অভাব, খোলা ও উন্মুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগ, পানীয় জলের সমস্যা, মাদকাসক্ত, পুষ্টিকর খাবারের অভাব, নালা ও খালের পানি ব্যবহার, কাজের নোংরা পরিবেশ, পর্যাপ্ত চিকিত্সাসুবিধার অভাবে চা-শিল্প জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি চরমে।
হীড বাংলাদেশ কমলগঞ্জের কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগের চা-বাগানে ২০১৯ সালে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ছিলেন ৩৬৪ জন। ছয় মাসের চিকিত্সায় সুস্থ হয়েছেন ২৮৬ জন। চিকিত্সাধীন রয়েছেন ৭৮ জন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত রোগী রয়েছেন ২৫ জন। ২০১৯ সালে যক্ষ্মায় আক্রান্ত সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারে ১ হাজার ৮৮৩, হবিগঞ্জে ১ হাজার ১২৩, সিলেটে ২৪৫ জনসহ চা-বাগানে ৩ হাজার ২৫১ জন যক্ষ্মা রোগী রয়েছে। এদের মধ্যে শিশু রয়েছে ১২৬ জন। শমশেরনগর চা-বাগানের নারায়ণটিলার একই লাইনে চার জন বিকলাঙ্গ রোগী রয়েছে। তারা হলেন অভিমনি চাষা (৬০), সীমা রেংগট (১৮), অনুকা চাষা (১৩) ও বাসন্তী গোয়ালা (৩৫)। মনি গোয়ালা, শ্রীমতি চাষা, সাথী চাষা জানান, ‘আমাদের চা-বাগানের অনেককেই বিকলাঙ্গ, চর্ম, পুষ্টিহীনতাসহ নানা রোগব্যাধী নিয়েই কাজ করতে হয়।’ কমলগঞ্জে হীড বাংলাদেশের যক্ষ্মা, কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কুষ্ঠ প্রকল্প ইনচার্জ পরেশ চন্দ্র দেবনাথ ইত্তেফাককে বলেন, এ বছর করোনার কারণে মার্চ থেকে কার্যক্রম সম্ভব হয়নি। অন্যথায় আরো রোগী পাওয়া যেত। তাদের বাড়িঘরের অবস্থা ও অসচেতনতা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের অভাব, নোংরা পরিবেশ ও কলোনিসমূহে ঘনবসতি বেশি থাকায় চা-বাগানগুলোতে যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।
যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রজেক্ট ডিরেক্টর মোনরো যাকব বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে এ বছরের কার্যক্রমে কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তার পরও চা-বাগানে কার্যক্রম অব্যাহত আছে। বছর শেষে চলতি বছরের চিত্র বেরিয়ে আসবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, হাসপাতালে চা-বাগানের শ্রমিকেরা এলে তাদের যথাযথ চিকিত্সা প্রদান করা হয়। তাছাড়া চা-শ্রমিকেরা যেসব রোগে আক্রান্ত, তার সবই হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হয়।