পাবনায় নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনায় বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কারিগররা নৌকা তৈরি ও মেরামত কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নৌকা ব্যবসায়ীরা ব্যবসার  প্রস্তুতি শুরু করায় নৌকার কারিগরদের (মিস্ত্রি) কদর বেড়েছে।  বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা, নগরবাড়ি, রূপপুর, হাঁটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়ন, কৈটোলা, নতুন ভারেঙ্গা এবং ঢালারচর ইউনিয়নে দেখা গেছে,  এসব চরের বেশির ভাগ ডুবে গেছে। উপজেলার নাকালিয়া বাজার সংলগ্ন যমুনা নদীর পাড়ে পুরাতন নৌকা মেরামত করতে ব্যস্ত কারিগররা। প্রায় ২৫-৩০টি কারখানায় নৌকা তৈরি হচ্ছে।

কারিগর ফয়জাল মিয়া জানান, বর্ষা আসার আগেই প্রায় সব নৌকাই ঠিকঠাক করে আলকাতরা দেওয়া হয়। মেরামত করা হয় ভাঙাচোরা নৌকা। আমিনপুর বাজার বাসস্ট্যান্ডের মালিক আশরাফুল ইসলামের কারখানায় নৌকা তৈরির জন্য ২০ জন মিস্ত্রি কাজ করছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দামে নৌকা পাওয়া যায়। কম দামের নৌকা তৈরিতে জলকড়ই, ডেম্বুল, কদম ইত্যাদি কাঠ ব্যবহার করা হয়। দাম পড়ে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর প্লেনসিটের তৈরি নৌকা ৮ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। চরনাগদাহ গ্রামের বাসিন্দা শেখ আলী হাসান জানান, বর্ষায় নৌকা ছাড়া তারা অচল। গরুর ঘাস কাটা, মাছ ধরা ও পারাপারের জন্য নৌকাই তাদের একমাত্র ভরসা। এদিকে, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুজানগর, বেড়া, চাটমোহর ও ঈশ্বরদী এলাকার নৌকার মালিকরা নতুন নৌকা তৈরি ও পুরাতন নৌকা মেরামতের কাজ শুরু করেছেন।

সাঁথিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান সহঅধ্যাপক কামরুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়া-আসা বন্ধ থাকলেও জীবনজীবিকা এবং চিকিত্সার জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যেতে নৌকার প্রয়োজন হয়। তাছাড়া মাছ ধরা তো আছেই।