নিকলী উপজেলার সিংপুর গ্রামের তনিয়া আক্তার। বয়স বড়জোর আট বছর। জীবনের মানে কতোটুকুইবা বুঝতে শিখেছে সে? কিন্তু বুঝুক আর না বুঝুক, শিশু বয়সেই তাকে নামতে হয়েছে জীবন ও জীবিকার কঠিন যুদ্ধে। প্রচণ্ড শীতের মধ্যে ছেঁড়া জামা গায়ে, খালি পায়ে এক কিলোমিটার পথ মাড়িয়ে সাত সকালেই তাকে ছুটতে দেখা যায় হাওরের মাঠে।
চোখ তার গরুর পালে সাঁটা। ওই গরুর গোবর তুলে বাড়ি নিয়ে যাবে তনিয়া। সেই গোবর খড়ে মিশিয়ে ছটা তৈরি করবেন তনিয়ার মা বেগম। প্রতি ছটা বিক্রি হবে ১০ টাকা দরে। সেই টাকায় ঘুড়বে তনিয়াদের সংসারের চাকা। ঘুম থেকে জেগেই তনিয়া খেয়ে না খেয়ে গোবরের খোঁজে ছোটে। সঙ্গে তার দুই বছরের বড় ভাই আমিন ও বোন আকলিমা। তনিয়ার সঙ্গে তারাও ছুটে চলে মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। সকাল থেকে দুপুর এভাবেই কেটে যায় ওদের জীবন চলা।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় সিংপুর হাওরের বিশাল মাঠ যেনো গরুর পালের নয়, তনিয়াদেরও খাদ্যের উত্স। ঘাস খেতে খেতে মাঠময় চরে বেড়ায় গরুর পাল। আর চরতে থাকা গরুর পেছন পেছন ছুটে চলে তনিয়া, আকলিমা, আমিন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন কাজ শেষে বাড়ি ফিরে ছেলে-মেয়েদের আনা গোবরে ছটা তৈরিতে বসেন মা বেগম। ওদের বাড়ি নিকলী উপজেলার সিংপুর গ্রামে। তনিয়ার বাবা বিল্লাল মিয়া অন্যের বাড়িতে কৃষি কাজ করেন। আমিন আর আকলিমা ছাড়াও লিপা নামে আরো এক বোন এবং উমর নামে আরো এক ভাই আছে তনিয়ার।
বড় বোন লিপার বিয়ে হয়েছে। লিপা ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করে। বড় ভাই উমরও কাজ করে ঢাকায়। তনিয়া, আকলিমা আর আমিন ছুটে চলে গোবরের খোঁজে।
ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে তনিয়া জানায়, আমি আর আমিন ভাই ও আকলিমা আপা সকালে ভাত খাইয়া গোপর (গোবর) তুকাইতে (কুড়াতে) মাডে (মাঠে) আইয়ি। আবার দুহুর (দুপুরে) বাড়িতে যাইগা। এভাবেই আমাদের সময় চলে যায়। আমাদের বয়সের মেয়েরা যখন স্কুলে যায় তখন আমাদেরও ইচ্ছা হয় স্কুলে যাইতে। কিন্তু খামু কী?