অজিত মনি দাস
করোনাকালে সবাই আতঙ্কিত, কেউ ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টা করছে, কেউবা দুশ্চিন্তায় দিন পার করছে ঘরে বসেই। এই ভীতিকর পরিবেশেও যখন ধর্ষণের মতো গর্হিত ঘটনা ঘটে তখন বিবেকটা দারুণভাবে দংশন করে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেও মানুষ যখন মৃত্যু ভয়কে উপেক্ষা করে ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটায় তখন আর বুঝতে বাকি থাকে না সামাজিক অবক্ষয়ের মাত্রা কতটা বেড়ে গেছে। এখনই ধর্ষণের মতো সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নতুবা অদূর ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ধর্ষণ এমন একটি সামাজিক ব্যাধি যা নারীর স্বাধীন চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে, নারীর সুন্দর, সাজানো গুছানো জীবনকে মুহূর্তের মধ্যেই তছনছ করে দেয়। নিমিষেই ধ্বংস করে দেয় নারীর অনাগত সুন্দর ভবিষ্যত্। যেকোনো মূল্যে এই ধর্ষণকে বন্ধ করতে হবে। ধর্ষণ প্রতিরোধে প্রতি বছরই ছোট-বড় আন্দোলন হয়েছে, মিছিল-মিটিং প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। তবুও ধর্ষণ তো বন্ধ হয়নি বরং মাঝে মাঝে মনে হয় দিনে দিনে ধর্ষণ বেড়েছে কয়েক গুণ। ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার বিষয়গুলো যখন নজরে আসে তখন মনে ভয়ানক পীড়ার সৃষ্টি হয়। মনে এমন ক্ষতের সৃষ্টি হয় যা সহজে শুকায় না। আরো বিস্ময়কর দিক হলো, ধর্ষণে নারীর কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও সেই অপরাধে তাকেই সীমাহীন কষ্ট সহ্য করতে হয়। এ যেন কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা। সমাজের কিছু সমালোচক ব্যক্তি ভিন্নমত পোষণ করবেই। ধর্ষণের কারণ হিসেবে দায়ী করবে নারীদের বেপরোয়া, বেপর্দায় ঘোরাফেরাকে। সেই সব ভিন্নমত মানুষের কাছে প্রশ্ন, তাহলে শিশুধর্ষণ কেন হয়? নারীদের ভোগের উপকরণ না ভেবে দৃষ্টিভঙ্গি পালটান। যে এলাকা বা মহল্লায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটবে, ঐ এলাকার জনগণকেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করতে হবে। নচেত্, একটি ধর্ষণের ঘটনা আরো বহু ধর্ষণের ঘটনার জন্ম দিবে। করোনা গোটা পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিতে পারলেও, ধর্ষকের মনে জঘন্য হিংস্রভাবকে দমাতে কেন অপারগ ? ধর্ষণের কারণ উদ্ঘাটনে কয়েকটি বিষয় বেশি নজরে আসে : কিশোর ও যুবকদের পর্নোগ্রাফিতে অধিক আকৃষ্ট থাকা, খারাপ সঙ্গ দোষ ও নেশায় আসক্ত থাকা, ছোট ছোট অপরাধ পরিবারের নজর না দেওয়া। কিন্তু ছোট ছোট অপরাধই বড় অপরাধের জন্ম দেয় তা ভুলে গেলে চলবে না। ফলশ্রুতিতে সমাজ অশ্লীলতা ও অপরাধ কর্মকাণ্ডে এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে। ধর্ষক নামের নরকের কীট যাতে এরূপ অপরাধ করতে গিয়ে বুক কেঁপে উঠে—বিবেক বাধা দেয়, সেজন্য সচেতন হতে হবে প্রতিটি পরিবারকে, প্রতিবেশীদের, বন্ধু-বান্ধবসহ প্রশাসনকেও। মা-বোনের তুল্য নারী সমাজকে বলব, আপনার আশেপাশে হয়তো কোনো নরপিশাচ ফাঁদ পেতে আছে, সুযোগের অপেক্ষায় আছে। কোনো অপরাধের গন্ধ পেলে পরিবারকে জানান, আপনজন হলে কথা বলা বন্ধ করে দিন, দরকার হলে প্রশাসনকে অবহিত করুন। আপনজন ও কাছের কেউ হলেও ধর্ষণ ও আপনার সম্মান নিয়ে খেলার অধিকার তার নেই ? মুখ বুঝে কোনো কিছু সহ্য করার দিন আর নেই, প্রতিবাদী হয়ে উঠুন? কোনো কিছু হওয়ার আগেই রুখে দাঁড়ান, আপনাকে দেখে হাজারো মেয়ে সাহস পাবে। ধর্ষণ ঠেকাতে নারী সমাজের ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিবাদী হওয়া খুবই প্রয়োজন।
n লেখক :শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়