৩৮তম বিসিএস

স্বাস্থ্য ক্যাডারে ২০৫ চিকিত্সককে দ্বিতীয়বার নিয়োগের সুপারিশ!

 ‘সোনার হরিণ’ সরকারি চাকরিতে দ্বিতীয়বার স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ২০০ চিকিত্সক। ‘রাজকপাল’ এসব চিকিত্সকদের কারণে আগামীতে শূন্য হবে পদগুলো। জানা গেছে, ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে থেকে প্রায় ২০৫ জন চিকিত্সক ৩৮তম বিসিএসেও নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। নিয়োগ বঞ্চিতদের প্রশ্ন একজন চিকিত্সক কীভাবে একই ক্যাডারে দুইটা চাকরি করবেন? কেন সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) পুনরায় তাদের নিয়োগে সুপারিশ  করল? এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, ৩৮তম বিসিএস আগের এবং সাধারণ। ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের চেয়ে ৩৮তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্তরা সিনিয়র। ফলে কেউই একই ক্যাডারে দুইবার নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও পিএসসির কোনো কিছুই করণীয় ছিল না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি চাকরির কঠিন প্রতিযোগিতায় এক প্রার্থী পরপর একই পদে নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় যোগ্যরা কাঙ্ক্ষিত চাকরি থেকে বঞ্চিত হলেন। ২০১৭ সালের জুনে ৩৮তম সাধারণ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এতে অন্যান্য ক্যাডারের মতো চিকিত্সকরাও অংশ নিয়েছিলেন। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা শেষে গত মঙ্গলবার ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ২২০ জন চিকিত্সকসহ ২ হাজার ২০৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে পিএসসি। অন্যদিকে গত বছর ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এই বিসিএসে কেবল চিকিত্সকরা অংশ নেন। এতে কোনো লিখিত পরীক্ষা ছিল না। তাই তুলনামূলক কম সময়েই এর নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হয়।

৩৮ ও ৩৯তম বিসিএসের চিকিত্সক নিয়োগের সুপারিশ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২২০টি চিকিত্সক পদের বিপরীতে ৩৮তম বিসিএসে ৮৪৮ জনের ভাইভা দেওয়ার কথা থাকলেও ৪৫০ জনের মতো প্রার্থী ভাইভা দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে আবার ২৭০ জন ৩৯তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। মেধায় উত্তীর্ণ হয়েও চাকরি ছাড়া ছিলেন ১৮০ জনের মতো চিকিত্সক। ৩৮তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের পর চাকরি ছাড়া ১৮০ জন চিকিত্সকের মধ্যে থেকে মাত্র ১৫ জনের মতো স্বাস্থ্য ক্যাডার নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। অর্ধ শতাধিক চিকিত্সক নন-ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। ৩৯তম বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া ২৭০ জনের মধ্যে ২০৫ জনই পুনরায় ৩৮তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডার নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। একই ক্যাডারে পুনরায় নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে ৩৮তম বিসিএসের যোগ্য চিকিত্সকরা নিয়োগ বঞ্চিত হয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পিএসসির একজন সদস্য ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের হাতে চিকিত্সক পদে প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডারে পর্যাপ্ত শূন্য পদে নিয়োগের চাহিদা আছে। ফলে ৩৮তম বিসিএসের নন-ক্যাডারে যারা অপেক্ষমাণ আছেন তাদের সবাইকে নিয়োগের সুপারিশ করা হবে। এ ক্ষেত্রে ৩৯তম বিসিএসের চেয়ে ৩৮তম বিসিএস অগ্রাধিকার পাবে।