ফরিদপুরে নৌপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে শহরের গোয়ালচামট মহল্লায় অবস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক লুত্ফর রহমান মঙ্গলবার রাতে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নৌপুলিশ ফরিদপুর কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নাম সুমিত চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা গেছে, গোয়ালচামট মহল্লায় পরিবেশ অধিদপ্তর এবং নৌপুলিশের কার্যালয়টি পাশাপাশি ভবনে অবস্থিত।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. লুত্ফর রহমান জানান, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাত্ করে এক ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় এসে কোনো কারণ ছাড়াই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং আমার স্টাফদের মারধর করে। আমি এগিয়ে গেলে আমাকেও চড়-থাপ্পড় মারেন তিনি। ভয়ে আমি অফিস থেকে বের হয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করি। পরে জানলাম তিনি নৌপুলিশ ফরিদপুর কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী ।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে এই পুলিশ কর্মকর্তা ঐ কার্যালয়ে ঢুকে প্রথমে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হানিফ মোহাম্মদকে গালিগালাজ ও চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক তুহিন আলম ও সদ্য যোগদানকারী নারী কর্মকর্তা গীতা রানী দাসকে গালাগলি করেন। এ সময় অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাধা দিতে এলে তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন ঐ পুলিশ কর্মকর্তা। পরিবেশ অধিপ্তরের সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অফিসের ভেতর অস্বাভাবিকভাবে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। তিনি দুই জন কর্মচারীকে চড়-থাপ্পড় মারেন, এক জনের মুখের মাস্ক টেনে খুলে নেন। কর্মকর্তাদের রুমে সিসি ক্যামেরা না থাকায় রুমের ভেতরের মারধরের দৃশ্য দেখা যায়নি।
খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপক কুমার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম রেজা।
নৌপুলিশের ফরিদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আরিফ এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী একজন বদ্ধ মাতাল। তিনি প্রায়ই অফিসে মাতাল অবস্থায় আসেন। কর্মকর্তা ও ফোর্সদের গালিগালাজসহ মারধর করতে যান। এসব কারণে আমি নিজেও ভয়ে থাকি। এসব অপকর্মের জন্য গত ২৮ জুন তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে মঙ্গলবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটত না। তিনি যে ঘটনাটি গতকাল পরিবেশ অধিদপ্তরে ঘটিয়েছেন তা শৃঙ্খলা পরিপন্থি তো বটেই, সেই সঙ্গে এতে পুলিশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে।’
জেলা পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামান জানান, বিষয়টি আমরা দুই জনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।