খাতুনগঞ্জে বেড়েছে মসলার দাম

কোরবানির আগেই পাইকারি মসলার বাজারকে অস্থির করে তুলছেন সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে কিছুদিন যাবত্ দফায় দফায় বৃদ্ধি পাচ্ছে মসলাজাতীয় সব পণ্যের দাম। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে চার-পাঁচটি দোকানিকে জরিমানা করেছে। জানা যায়, দোকানিরা নিজেদের কাছে থাকা রসিদে বিক্রয়মূল্যের চেয়ে কম লিখে রাখছেন। এ ধরনের কয়েকটি চালান হাতেনাতে প্রমাণ পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

কোরবানিতে দেশে মসলাজাতীয় পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। সারা বছরের চেয়ে কোরবানিতে মসলার বেশি চাহিদা থাকে। প্রতি বছরই দেখা যায় কোরবানির এক মাস আগে থেকে মসলার বাজারে হঠাত্ দফায় দফায় দাম বাড়তে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। খাতুনগঞ্জের অসাধু সিন্ডিকেট আমদানিকারকরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত দোকানিদের রসিদ পরীক্ষা করে বিক্রয় ও ক্রয়মূল্যের ব্যাপক ফারাক দেখতে পায়। কেজি ২ হাজার ৪১০ টাকা ক্রয়মূল্য হলেও মূল্য তালিকায় লেখা হয়েছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা। ২৪০ টাকা দারুচিনি ৩৭০ থেকে ৪০০ টাকায়, ২৭০ টাকার জিরা ৪০০ টাকায়, ৪২০ টাকার গোলমরিচ ৬২০ টাকায়, ৬৪০ টাকার লবঙ্গ ৭৪০-৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন পাইকারি বিক্রেতারা। আবার খুচরা বাজারে এসব মসলা দ্বিগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।  খাতুনগঞ্জের মসলার আমদানিকারক ব্যবসায়ী অমর কান্তি দাশ ইত্তেফাককে বলেন, ‘করোনার কারণে আরো কম দামে মসলাজাতীয় পণ্য বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পণ্যের প্রচুর সরবরাহ রয়েছে। পাইকারি বিক্রেতারা কি দামে পণ্য বিক্রি করবে আমরা সমিতির মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছি।’ অপর আমদানিকারক ব্যবসায়ী মো. ফারুক ইত্তেফাককে বলেন, ‘পাইকারি বাজারে মসলাজাতীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। খুচরা বাজারে কত দামে বিক্রি করছে তা আমাদের দেখার বিষয় নয়।’

পাইকারি বিক্রেতাদের অভিযোগ খাতুনগঞ্জে পাঁচ-ছয় জন আমদানিকারক ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাদের  ইচ্ছার ওপর মসলার দাম নির্ভর করে। কোনো উত্সব আসলেই তারা পণ্য নিয়ে কারসাজি শুরু করেন। বাড়ে পণ্যের দাম। খাতুনগঞ্জে কয়েক শ স্লিপ বিক্রেতা রয়েছেন। স্লিপের মাধ্যমে পণ্য কিনে কয়েক দফায় হাতবদল হয়ে ক্রেতার কাছে পৌঁছে। এদের কারণে পণ্যের দাম আরো বেড়ে যায়।

এদিকে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। তবে পাইকারি বিক্রেতা ইদ্রিস আলী ইত্তেফাককে বলেন, ‘পেঁয়াজ ২০/২১ টাকায়, রসুন ৬৫/৭০ টাকায় এবং আদা ১০০/১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আমরা এখন লোকসানে পণ্য বিক্রি করছি। কোরবানির আগে আদার দাম আরো বাড়তে পারে।’