চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজারের কাছাকাছি। এই জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ৩ এপ্রিল। তবে গতকাল বুধবার পর্যন্ত তিন মাসে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ৮৫২ জনে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে আরো ৩৭২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরো পাঁচ জনসহ এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১৭৮ করোনা রোগী মারা গেছে। তাদের মধ্যে নগরীর ১৩৪ জন ও বিভিন্ন উপজেলার ৪৪ জন। মৃতদের মধ্যে সাত জন ছিলেন চিকিত্সক। এছাড়া পুলিশ, ব্যাংকার, শিল্পপতি, ব্যবসায়ীসহ অন্য পেশার মানুষজনও করোনায় মারা গেছে। জেলাসহ পুরো চট্টগ্রাম বিভাগেই করোনা ভাইরাস বিস্তার লাভ করছে দ্রুত গতিতে। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৪১ জনের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগেরই রয়েছেন ১৭ জন। চট্টগ্রামে করোনা রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি পালনে অনীহাই মূল কারণ বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও চিকিত্সাসংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
এমন আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে গতকাল চট্টগ্রামের অধিকাংশ দোকানপাট ও মার্কেটগুলো খুলেছে। ঘরে থাকার বাধ্যবাধকতাও আগের তুলনায় শিথিল করা হয়েছে। এতে পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। তাছাড়া সামনেই কোরবানির ঈদ। এ উপলক্ষ্যে নগরীতে গরুর হাট বসানোর প্রস্তুতি চলছে। গরুর হাটকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। করোনার বিস্তার ঠেকাতে ইতিমধ্যে নগরীর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডকে লকডাউন করা হয়েছে। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চট্টগ্রামের আরো কিছু এলাকায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
জানা গেছে, চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার প্রবণতা যেমন রয়েছে তেমনি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনো বালাই নেই। এ কারণে করোনা রোগী ৯ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। গতকাল বুধবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুসারে জেলার ১৪টি উপজেলায় প্রতি ১০০ জনের নমুনা পরীক্ষায় গড়ে ২৮ জন করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে এসব এলাকায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪২ শতাংশ।