চীনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ যাবতকালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী এবং ‘আক্রমণাত্মক’ এক প্রতিরক্ষা কৌশলের কথা গতকাল জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। নতুন এই কৌশলের আওতায় অস্ট্রেলিয়া তাদের সৈন্য সংখ্যা অনেক বাড়াবে, শত্রুর যুদ্ধজাহাজে আঘাত করতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে, সাইবার যুদ্ধের ক্ষমতা বাড়াবে এবং এখন থেকে তাদের প্রতিরক্ষা নীতির একচ্ছত্র নজর হবে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা। নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল তুলে ধরার সময় মরিসন বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া চায় ইন্দো-প্যাসিফিক অর্থাত্ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থাকবে ‘মুক্ত যেখানে কোনো একটি দেশের আধিপত্য এবং জবরদস্তি চলবে না। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, চীনের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়াকে প্রস্তুত করতে তিনি বদ্ধপরিকর।
অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-জাপান আঁঁতাত
শুধু সামরিক বাজেট বৃদ্ধিই নয়, চীনের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে গত প্রায় এক দশক ধরে ‘কোয়াড’ নামে যে আঁঁতাত গড়ে উঠছে তাতে আরো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে অস্ট্রেলিয়া। ২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছরও জাপান-ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র যে যৌথ নৌ মহড়া করছে তাতে এতদিন পর্যন্ত মূলত ভারতের আপত্তিতে অস্ট্রেলিয়া ছিলনা। প্রধান কারণ, চীন অখুশি হবে বলে ভারত এই মহড়ায় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাপারে অনীহা জানিয়ে এসেছে। কিন্তু চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধ সেই পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। ভারতীয় একাধিক পত্রিকায় লেখা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাপারে ভারত এবার তাদের আপত্তি তুলে নিচ্ছে, এবং আগামী আগস্টে যে মহড়া হওয়ার কথা তাতে হয়তো এবার অস্ট্রেলিয়াও থাকছে। -বিবিসি