গোদাগাড়ীতে ছয়টি দোকানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। এদিকে ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হচ্ছেন: উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের সাখোয়াত হোসেনের ছেলে শানওয়ার হোসেন বিদ্যুত্, তার ভাই সাগর হোসেন ও রাজাবাড়ী গ্রামের মুসলেমউদ্দীনের ছেলে রুহুল আমিন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের কুমোরপুর বাজারের অধিকাংশ দোকান ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এসময় পিকাপ ভ্যানযোগে ২০-২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাজারের বদর আলী ও টিয়ার ধানের আড়ত্, বাহাদুরের কাপড়ের দোকান, শাহীন কামালের সার ও কীটনাশক সিনজেন্টার বিক্রয় কেন্দ্র, আল-আমিনের ওষুধের দোকান, নিশাতের পানের দোকান ও জুয়েল টেলিকমে প্রথমে ভাঙচুর ও লুটপাট করে যাওয়ার সময় অগ্নিসংযোগ ঘটায়। পরে গোদাগাড়ী দমকল বাহিনীর সদস্যরা আগুন নিভিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু এর আগে দোকানগুলোর সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকেরা জামায়াত-বিএনপির সমর্থক। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমোরপুর আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট চলাকালীন সময় জামায়াত-বিএনপি সমর্থকদের হামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ ও যুবলীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমান আহত হন। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর জের ধরে ৬টি দোকানে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ঘটতে পারে। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে এলাকার কেউ জড়িত নয়। কোনো নেতার ব্যক্তিগত আক্রোশে বহিরাগতরা ঘটনা ঘটিয়েছে। এর জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ দায়-দায়িত্ব বহন করবে না। এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার লুত্ফর রহমান বলেন, এ ঘটনা কারা ঘটিয়েছে তা বের করতে পুলিশ তদন্ত করছে।
গত বুধবার দুপুরে রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক খুরশিদ হোসেন ও রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা জড়িতদের আটক করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে বিকেলে দোকানপাট খোলা শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি দোকান বন্ধ ছিল। গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হবে।