কথায় আছে, পহেলা দর্শনধারী পরে গুণ বিচারি। ডিজিটাল বাংলাদেশের দর্শনধারী দিকটি কেমন হইতে পারে, তাহা যাচাই করিবার জন্য পরপর তিন দিন মঙ্গল, বুধ ও গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা নাগাদ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সকল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা হয়। দেখা যায়, ওয়েবসাইটগুলির একদম নিচে প্রদত্ত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী অধিকাংশ ওয়েবসাইটই নিয়মিত হালনাগাদ হয় নাই। অনেক ওয়েবসাইট রহিয়াছে, যেইগুলি মঙ্গলবার আপডেট ছিল না; কিন্তু বুধবার ছিল। আবার বুধবার আপডেট থাকিলেও বৃহস্পতিবার আপডেট হয় নাই। আবার ঠিক উলটাও দেখা গিয়াছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এবং দুই-তিন দিন ধরিয়া যেই সকল ওয়েবসাইট হালনাগাদ হয় নাই—এমন ওয়েবসাইটের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়; তথ্য মন্ত্রণালয় অন্যতম। পরের দিনই এই লিস্টের পরিবর্তন ঘটিবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন সাইটটির অনেক অংশই মে মাসের ১২ তারিখের পর হালনাগাদ করা হয় নাই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাইটটি শেষ হালনাগাদ করা হইয়াছে ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর। একইভাবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সাইটটিও শেষ হালনাগাদ করা হয় গত বত্সর। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাইটে দেওয়া ভিডিওর লিংক ইউটিউবের একটি অনাম্নী চ্যানেলের। ইহা ঠিক নহে। মন্ত্রণালয় বহির্ভূক্ত চ্যানেলের ইউটিউব ভিডিওর লিংক শেয়ার করিবার সমস্যা আরো অনেক সরকারি ওয়েবসাইটেরই রহিয়াছে।
বাংলাদেশের সরকারি ওয়েবসাইটগুলি দর্শনধারী হিসাবে খুব বেশি নান্দনিক নহে। অনেক সাইটেরই প্রচ্ছদে দেওয়া ছবি দৈর্ঘ্য-প্রস্থ অনুযায়ী আপলোড করা হয় নাই। ফলে ছবিগুলি চ্যাপটা হইয়া গিয়াছে। আর গুণ বিচারের কথা বলিতে গেলে, অধিকাংশ সাইটেই তথ্যের হালনাগাদের সমস্যা তুলনামূলক বেশি। যেই সকল সেবা দেওয়া হয়, অনেক ক্ষেত্রেই তাহা ইউজার ফ্রেন্ডলি নহে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) আধুনিক ওয়েবসাইটে যেইভাবে ব্যবহার করা হয়, দেশের সেবামূলক সরকারি সাইটে ইহার প্রবল অভাব দেখা যায়। ইহার বড় উদাহরণ পাসপোর্টের ফরম ফিলআপের ওয়েবসাইট। তথ্য বাতায়নে বাংলাদেশের সকল জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের ওয়েবসাইট রহিয়াছে। বহু ক্ষেত্রেই এই সকল ওয়েবসাইট নামকাওয়াস্তে রহিয়াছে। দিনের পর দিন আপডেট হয় না। ‘প্রকল্পসমূহ’ ক্যাটাগরি ভিজিট করিয়া দেখা যায়, পূর্বের কিছু অর্থ বত্সরের কাবিখা, কাবিটা, টিআর, জিআর, এলজিএসপি ও এলজিডি প্রকল্পের তথ্য সন্নিবেশন করা রহিয়াছে মাত্র।
সাধারণভাবে বলিতে গেলে দেশের ওয়েবসাইটগুলির মধ্যে সরকারি সাইটগুলিই সকলের চাইতে অধিক ব্যয়বহুল। একসময় দিনের পর দিন সাইটগুলির তথ্য আপডেট হইত না এবং ভুল তথ্য দেওয়া থাকিত। এখন এই সকল বিষয় হইতে অনেকটাই উন্নতি হইয়াছে বটে, তবে নিয়মিত হালনাগাদ না হইবার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার উপর নির্ভর করে। এই আন্তরিকতার অভাব এখন প্রকট বলিয়া মনে হইতেছে। বিশ্বের সহিত তাল মিলাইয়া চলিতে হইলে এবং করোনার সময় ডিজিটাল সেবা বৃদ্ধি করিতে হইলে ইহার তাত্পর্যপূর্ণ উন্নয়ন প্রয়োজন।