চিকিত্সা কার্যক্রম জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেয়। কিন্তু এর ফলে নানা বর্জ্য তৈরি হয়—এগুলোকে মেডিক্যাল বর্জ্য বা ক্লিনিক্যাল বর্জ্য বলা হয়। এসব বর্জ্য পরিবহন এবং ব্যবস্থাপনার কাজটি এমনভাবে করতে হবে যেন সংক্রমণ না ঘটে এবং পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে। এতে অব্যবস্থপনা হলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। মেডিক্যাল বর্জ্যকে প্রাথমিকভাবে দুভাগে ভাগ করা হয়—সাধারণ বর্জ্য এবং সংক্রামক বর্জ্য। এই সাধারণ বর্জ্য ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ আর সংক্রামক বর্জ্য ২০-২৫ শতাংশ। সংক্রামক বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা ঠিক না হলে আমরা চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ব। তাই আমাদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে মেডিক্যাল বর্জ্য। করোনা সংকটে অনেক জায়গায় অস্থায়ী আইসোলেশন সেন্টার চালু হয়েছে। ফলে মেডিকেল বর্জ্য বেড়ে চলেছে—এটি ব্যবস্থাপনার বিশেষ প্রয়াস চলাতে হবে। মেডিক্যাল বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও শোধন) নীতি ২০০৮ অনুযায়ী বর্জ্যগুলোকে আলাদাভাবে ব্যবস্থাপনার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বর্জ্য ব্যবস্থপনার জন্য ৬টি রঙের আলাদা পাত্র রাখার সুপারিশ করা হয়। এসব মেডিক্যাল বর্জ্য পৃথকীকরণ খুব গুরুত্বপূর্ণ—এক্ষেত্রে হাসপাতালে কর্মরত সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়—মুনাফালোভী অসাধু চক্র ডিসপোজাল আইটেম যেমন সিরিঞ্জ, স্যালাইন সেট, গাউন এগুলো ডাম্পিং স্টেশন থেকে চুরি করে আবার বাজারে দিয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। সাধারণ বর্জ্যগুলো শুধু ঠিকভাবে প্যাকেজিং করে আলাদাভাবে ডাম্পিং করতে হবে। হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিক না হলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে এবং আমরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ব। এজন্য স্ব স্ব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও আইসোলেশন সেন্টারগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা দরকার। এজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনে চলা অপরিহার্য। আসুন মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিক করি, সংক্রমণ কমাই।
ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দীন
নার্সিং কর্মকর্তা,
২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, কক্সবাজার