ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড

ইরানের ভূগর্ভস্থ একটি পারমাণবিক স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরানের দক্ষিণাঞ্চলের ইসফাহান প্রদেশের ভূগর্ভস্থ নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় আগুন লাগার ঐ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি এবং স্থাপনার কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।

জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ইরানে যে কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা নজরদারিতে রেখেছে নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা সেগুলোর অন্যতম। ১ লাখ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে আট মিটার ভূগর্ভস্থ এই স্থাপনার অবস্থান রাজধানী থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা।

সংস্থাটির মুখপাত্র বেহরুজ কামালবন্দি দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন, পারমাণবিক ঐ স্থাপনায় কোনো হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। স্থাপনাটির কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, দূষণ ছড়ানোর কোনো শঙ্কা নেই। কারণ এই স্থাপনাটির একটি ক্ষেত্র নিষ্ক্রিয় ছিল এবং সেটি নির্মাণাধীন থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরো স্থাপনায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

নাতাঞ্জ শহরের গভর্নর রমজান আলী ফেরদৌসি জানান, অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা ঘটনাস্থলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি দিতে পারেননি। ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার একদল বিশেষজ্ঞ পারমাণবিক ঐ স্থাপনার অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছেন।

২০১৫ সালে ছয় বিশ্ব শক্তির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি অনুযায়ী তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তে পারমাণবিক কর্মসূচির লাগাম টানতে রাজি হয় ইরান। তবে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে এই চুক্তি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ইরান পারমাণবিক প্রতিশ্রুতি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসতে শুরু করে। পরে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।