নীলকণ্ঠ আইচ মজুমদার
সারা পৃথিবীতেই করোনার কারণে চলছে অর্থনৈতিক মন্দা। তাই এবারের বাজেট অন্যান্য বছরের চেয়ে একটু ভিন্ন। খেটে খাওয়া মানুষের কাছে জিডিপি, রিজার্ভ বা প্রবৃদ্ধির হার বিবেচ্য নয়। যদিও এসব মানুষের কর্মের ওপর ভিত্তি করেই অর্থনৈতিক সূচক তৈরি হয়ে থাকে। সাধারণ মানুষ চায় দু’বেলা পেট ভরে ভাত খেতে এবং শান্তিতে ঘুমাতে। করোনা পরিস্থিতিতে সব খাতই বিপর্যস্ত। জিডিপিতে জোগান দেওয়া সব খাতেই চরম অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এখন দেখা যাক এবারের বাজেটে যেসব আয়ের খাতগুলো দেখানো হয়েছে তার বৃহত্ দিকগুলো। বাজেটের আয়ের সবচেয়ে বড়ো খাত হলো রাজস্ব। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ছাড়াও এর বাইরে থেকে টাকা আসে। এছাড়াও ব্যাংক ঋণ, সঞ্চয়পত্র, বৈদেশিক অনুদান, অন্যান্য ঋণ, কর ছাড়াও প্রাপ্তির জায়গা রয়েছে। সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে এনবিআরকে। ১ জুলাই বাজেট কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই করোনাকে সঙ্গী করে এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে। তাই সত্যিকার অর্থে এ বাজেটের সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রাজস্ব আহরণ।
দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে মানুষের মুখে আহার তুলে দিয়ে উন্নয়নের পথে ধাবিত করাই বাজেটের মূল লক্ষ্য। তাই করোনাকালের বাজেটে বিভিন্ন দিক থেকেই সরকারকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা, বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান তৈরি করা প্রধান কর্তব্য। কারণ লকডাউন থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা এবং অনেক শ্রমিক হারিয়েছে তাদের চাকরি। তাই তাদের পুনর্বাসন করতে হবে জরুরিভিত্তিতে। জিডিপিতে বিশেষ অবদান রাখা এবং দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিকে টিকিয়ে রাখার অন্যতম খাত হচ্ছে কৃষি। ভর্তুকির মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। চাহিদা বিবেচনা করে সবচেয়ে বেশি সামনে আনা হয়েছে স্বাস্থ্য খাতকে। যদিও এ খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ হয়েছে তা বলা যাবে না। করোনাকালে স্বাস্থ্য খাতের যে বেহাল দশা বেরিয়ে এসেছে তা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে এবং বরাদ্দকৃত বাজেটের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে।
প্রতি বছরই বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধির একটি অনুমান করা হয়। দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে উত্পাদিত সব রকমের দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্যকে জিডিপি বলা হয়ে থাকে। মোট দেশজ উত্পাদন হিসাবের সময় দেশের ভেতরে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ থেকে উত্পাদিত সকল প্রকার দ্রব্য ও সেবাকর্মকে ধরা হয়। বাজেটের সার্বিক বিষয়ই মানুষের কল্যাণে। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের বেলায় যে বাজেট বরাদ্দ হয়ে থাকে তা যদি যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মানুষের অনুকূলে নিয়ে আসা যায় তাহলে নির্দ্বিধায় বলা যায় অর্থনৈতিক ভিত হবে মজবুত। এ বাজেটকে পুঁজি করে একশ্রেণির ব্যবসায়ী বাজারব্যবস্থাকে করে তোলে অস্থিতিশীল। এদের প্রতি সরকারের তীক্ষ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। অন্যদিকে এনবিআরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করের আওতা বাড়ানো জরুরি। প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে এনবিআরের কার্যক্রমকে করদাতাদের দোরগোড়ায় নিয়ে আসতে হবে, যাতে হয়রানিমুক্ত হয়ে স্বেচ্ছায় করদাতারা কর প্রদান করতে পারেন—এটা এনবিআরের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এসব বিবেচনায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়ন করা গেলে বাজেট হবে জনবান্ধব। পেশকৃত বাজেটের আকার চলতি বছরে করোনাকালে বড়ো দেখালেও অবাস্তব নয়, তা অবশ্যই বাস্তবায়নযোগ্য। পক্ষে বিপক্ষে রাজনৈতিক বিবেচনায় সমালোচনা করলেও বাস্তবতায় সকল বাধা ডিঙিয়ে যাবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। সব বাধা এড়িয়ে করোনাকালে মানুষ রক্ষার এ বৃহত্ বাজেট বাস্তবায়নই সরকারের জন্য বড়ো চ্যালেঞ্জ।
ময়মনসিংহ