নোয়াখালীর সেই নারীকে গণধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সেই ভুক্তভোগী নারীকে গণধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছেন চিকিত্সকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ক ডাক্তারি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল বোর্ড। হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই নারীকে গণধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। এদিকে এই ধর্ষণ ঘটনার মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের এক নেতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত তিন দিনে এই মামলায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হলো।

জেলার পুলিশ সুপার মোঃ ইলিয়াছ শরীফ জানান, গতকাল বিকেলে মেডিক্যাল পরীক্ষার প্রতিবেদনটি তার কার্যালয়ে পৌঁছেছে। এর আগে বুধবার গভীর রাতে জেলা সদরের উত্তর ওয়াপদা এলাকার একটি মুরগির খামার থেকে রুহুল আমিন নামে একজন এবং সেনবাগের একটি ইটভাটা থেকে এই মামলার পাঁচ নম্বর আসামি বেচুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রুহুল আমিন সুবর্ণচর উপজেলার চর জুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামের মৃত খুরশিদ আলমের ছেলে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে বলে তিনি জানান।  স্থানীয়রা জানান, রুহুল আমিন সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এবং চর জুবলী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য। তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আর গ্রেফতারকৃত বেচু মধ্যম বাগ্যা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

এর আগে বুধবার কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মহেষপুরের একটি ইটভাটা থেকে মামলার প্রধান আসামি সোহেলকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা থেকে মামলার তিন নম্বর আসামি স্বপনকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার মামলার ছয় নম্বর আসামি বাসু গ্রেফতার হয়। এসপি জানান, এ মামলার তিন আসামি সোহেল, স্বপন ও বাসুকে গতকাল দুপুরে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

এদিকে বুধবার রাতে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নোয়াখালী হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ভুক্তভোগী ওই নারী ও তার স্বামীকে দেখতে যান। তিনি ভুক্তভোগীদের চিকিত্সার খোঁজ-খবর নেন। এসময় তিনি জানান, ঘটনায় অভিযুক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া গতকাল দুপুরে জাতীয় মহিলা সংস্থার একটি প্রতিনিধি দল নির্যাতিতাকে দেখতে হাসপাতালে যান। সেখানে সংস্থার নেতৃবৃন্দ সকল প্রকার সহায়তার আশ্বাস দেন।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার ভোটের পর রাতে চর জুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামের কয়েকজন দুর্বৃত্ত একই এলাকার ৪০ বছর বয়সী ওই নারীর বসত ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে তারা ওই নারীর স্বামী ও মেয়েকে বেঁধে রেখে তাকে ঘরের বাইরে নিয়ে গণধর্ষণ করে। পরে তাকে পিটিয়ে আহত করে বাড়ির বাইরে ফেলে যায়। পরদিন ওই নারী ও তার স্বামীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী ৯ জনকে আসামি করে চরজব্বার থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।