আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। ক্ষমতাকে কেউ নিজেদের সম্পদ মনে করবেন না এবং ব্যক্তি স্বার্থের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন না। সম্পদ অর্জনের হাতিয়ার বানাবেন না। জনগণের কাছে আমাদের যে ঋণ তা পরিশোধ করতে হবে। কে নৌকায় ভোট দিলো কে দিলো না সেটা বিবেচ্য নয়। আমরা সবার উন্নয়ন করব।
গতকাল বৃহস্পতিবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ শেষে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের শুরুতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে সর্বসম্মতিক্রমে চতুর্থবারের মতো সংসদ নেতা ও আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপর তিনি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।
শেখ হাসিনা দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে আরো বলেন, আপনাদের সুখে-দুঃখে জনগণের পাশে থাকতে হবে। কারণ জনগণ যদি সঙ্গে থাকে তাহলে কেউ আমাদের রুখতে পারবে না। জনগণের জন্য কাজ করুন। নিজেদের ভবিষ্যত্ জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে হবে। জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বজায় রাখতে হবে। নির্বাচনের আগে যেভাবে জনগণের কাছে গেছেন, শপথ গ্রহণের পর একইভাবে জনগণের কাছে যাবেন। জনগণের সবাইকে সমানভাবে দেখতে হবে। জনগণের কাছে আমাদের যে ঋণ রয়েছে উন্নয়নের মাধ্যমেই তা পরিশোধ করা হবে। সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষমতাকে জনগণের উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করবেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে সেটা অব্যাহত থাকবে। সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করে যুদ্ধাপরাধীদের মনোনয়ন দেয়। তারা মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে, নির্বাচন নয় যেন তাদের লক্ষ্যই ছিল মনোনয়ন বাণিজ্য করা। শেখ হাসিনা নির্বাচনে বিএনপির বিপর্যয়ের জন্য ‘মনোনয়ন বাণিজ্য’কে প্রধান কারণ উল্লেখ করে আরো বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিরোধী দলের আচরণ ছিল খুবই অদ্ভুত। তারা বিজয় হবে এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়নি। তারা প্রতিটি আসনে টাকা নিয়ে তিন থেকে চার জন প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। তারা নির্বাচনকে বাণিজ্য হিসেবে নিয়েছে, প্রতিযোগিতায় জিততে চায়নি। এ কারণেই তারা ডুবেছে, জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের সমুচিত জবাব দিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, গত ১০ বছরে আমরা উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছি। নির্বাচনের ফলাফলে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। এই অর্জন ধরে রাখতে হবে। এদেশের মানুষ অতীতে বিএনপির দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এবারের নির্বাচনে রায় দিয়েছে। উন্নয়নের গতি আরো বেগবান করা হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নের যে অগ্রযাত্রা সূচিত হয়েছে সেটা অব্যাহত থাকবে। ২১০০ সালকে টার্গেট করে আমরা এ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার সব ধরনের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু এ নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হয়েছে- আওয়ামী লীগ ধ্বংস হয়নি। বরং যারা যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী, জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করেছে, জনগণ তাদের সমুচিত জবাব দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীতে মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলব। ২০৭১ সালে স্বাধীনতার শত বার্ষিকী পালিত হবে। তখন যারা থাকবেন তারা স্বাধীনতার শতবার্ষিকী পালন করবেন একটা উন্নত সমৃদ্ধ দেশে। ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মনে রাখবেন ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি। ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। তারা প্রত্যেকের নামে মামলা করতে পারে। এসব মামলা মোকাবিলা করতে হবে। এছাড়া, নানা উপায়ে নতুন নতুন ষড়যন্ত্র করতে পারে তাই সজাগ থাকতে হবে। আমাদের যে অর্জন, সেটা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিজয়।
সংসদীয় দলের বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্নাত করেন আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এরপর সংসদ নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। সূত্র জানায়, সংসদ নেতা নির্বাচিত করায় দলের এমপিদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের মন জয় করতে পারলেই আবারও আপনারা এমপি হবেন, কেউ ঠেকাতে পারবে না।