বাংলাদেশে করোনার টিকা আবিষ্কারের দাবি গ্লোব বায়োটেকের

দেশে করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের দাবি করা হয়েছে। যদিও ঐ টিকা এখনো মানবদেহে প্রয়োগ করা হয়নি। বর্তমানে তিনটি খরগোশের শরীরে ঐ টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। মানবদেহে প্রয়োগ করে এর সফলতা পাওয়া যাবে বলে আশা করেছে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানটির রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডা. আসিফ মাহমুদ ভ্যাকসিনটি সম্পর্কে বলেন, প্রাথমিকভাবে করোনার ভ্যাকসিনে সফল হয়েছি। প্রাণী পর্যায়ে এটা সফল হয়েছে। তিনি জানান, তিনটি খরগোশের ওপর এ ভ্যাকসিন পরীক্ষা করা হয়েছে। আশা করি মানবদেহেও সফলভাবে কাজ করবে এ ভ্যাকসিন। তিনি জানান, এখন আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যাব। এরপর তাদের দেওয়া গাইডলাইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিগিগরই প্রটোকল তৈরি করে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এটি হস্তান্তর করা হবে।

টিকা আবিষ্কার প্রসঙ্গে এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজ অনুযায়ী ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৫ হাজার ৭৪৩টি সম্পূর্ণ             জিনোম সিকোয়েন্স জমা হয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে জমা হয়েছে ৭৬টি। উক্ত সিকোয়েন্স বায়োইনফরম্যাটিক্স টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড তাদের টিকার টার্গেট নিশ্চিত করে। যা যৌক্তিকভাবে এই ভৌগোলিক অঞ্চলে অধিকতর কার্যকরী হবে। উক্ত টার্গেটের সম্পূর্ণ কোডিং সিকোয়েন্স যুক্তরাষ্ট্রের এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজে জমা দিয়েছেন যা এরই মধ্যে এনসিবিআই কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রকাশিত হয়েছে।

টিকা আবিষ্কারের বিষয়ে আরো বলা হয়, গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের গবেষণাগারে আবিষ্কৃত টিকাটির বিশদ বিশ্লেষণের পর ল্যাবরেটরি এনিমেল মডেলে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করে যথাযথ এন্টিবডি তৈরিতে সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়া গেছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।

টিকা উদ্ভাবনে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সিইও ড. কাকন নাগ এবং সিওও ড. নাজনীন সুলতানা। প্রতিষ্ঠানটি গত ৮ মার্চ এই টিকা তৈরির কাজ শুরু করে। সব ধাপ পার হতে পারলে আগামী ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যে টিকা বাজারে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিরা।