শনাক্ত কমেছে বেড়েছে মৃত্যু

দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও সুস্থতার হার কমেছে। বেড়েছে মৃত্যু। দেশে করোনা শনাক্তের ১১৮তম দিনে গত ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪২ জন মারা গেছেন। বৃহস্পতিবারের চেয়ে গতকাল ৪ জন বেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার ৩৮ জন মারা যান। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট মারা গেছেন ১ হাজার ৯৬৮ জন। শনাক্তের বিবেচনায় গতকাল মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। আগের দিনও এ হার ছিল ১ দশমিক ২৬ শতাংশ।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ৬৫০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ হাজার ১১৪ জনের দেহে করোনা ভাইরাস              শনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবারের চেয়ে গতকাল ৯০৫ জন কম শনাক্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ১৮ হাজার ৩৬২টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিল ৪ হাজার ১৯ জন। তিনি জানান, দেশে এ পর্যন্ত মোট ৮ লাখ ১৭ হাজার ৩৪৭টি নমুনা পরীক্ষায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯১ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ শনাক্তের হার দশমিক ৬৩ শতাংশ কম।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৬০৬ জন। বৃহস্পতিবারের চেয়ে গতকাল ২ হাজার ৭২৮ জন কম সুস্থ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সুস্থ হয়েছিলেন ৪ হাজার ৩৩৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৬৮ হাজার ৪৮ জন। তিনি জানান, গতকাল শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ৪৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে গতকাল সুস্থতার হার দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি। ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৭৮১টি। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৭ হাজার ৯৪৭টি। বৃহস্পতিবারের চেয়ে গতকাল ৩ হাজার ১৬৬টি নমুনা কম সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৬৩টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৫০টি। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১৮ হাজার ৩৬২টি। গত ২৪ ঘণ্টায় আগের দিনের চেয়ে ৩ হাজার ৭১২টি কম নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, নতুন মারা যাওয়াদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ১০ জন নারী। বয়স বিবেচনায় ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছেন এক জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে তিন জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এক জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে সাত জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে তিন জন রয়েছেন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩১ জন এবং বাড়িতে মারা গেছেন ১১ জন। অঞ্চল বিবেচনায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে চার জন, বরিশাল বিভাগে এক জন এবং খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে তিন জন করে রয়েছেন।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২৩ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৭০ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৪৭ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২৯০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৭১ জন এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সের ৮৫৫ জন।

০১৩১৩-৭৯১১৩০, ০১৩১৩-৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯ এবং ০১৩১৩৭৯১১৪০ এই নম্বরগুলো থেকে হাসপাতালের সব তথ্য পাওয়া যাবে। কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা খালি আছে, কত রোগী ভর্তি ও কতজন ছাড় পেয়েছেন এবং আইসিইউ শয্যা খালি আছে কি না এই ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে জানা যাবে বলে তিনি জানান।