জাহাঙ্গীর আলম সরদার, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
উলিপুরে সারাদেশের মতো স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নিয়ে চরম উত্কণ্ঠায় পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডার গার্টেন থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীসহ তাদের অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
উলিপুর মহারাণী স্বর্ণময়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী সরদার মো. আখলাকুল হাসান অনিক জানান, কলেজ-টিউশনি চাপ না থাকায় প্রতিদিনই মনে হয় কাল থেকে পড়া শুরু করব। আজ-কাল করতেই সময় চলে যাচ্ছে। ১ম বর্ষের সময় শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কোর্সই শেষ হয়নি। অনেক অভিভাবক জানান, ছেলেমেয়েদের প্রতিনিয়ত চাপ দিয়েও লেখাপড়ায় মনোযোগ আনতে পারছেন না। উলিপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক মেওয়ানুল কবির জানান, এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের বাসায় নিয়মিত পড়াশুনা করতে হবে। কোনো বিষয়ে সমস্যা মনে হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সমাধান করে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। উলিপুর মহারাণী স্বর্ণময়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আশফাকুর রহমান বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দিয়ে কোর্স শেষ করতে হবে। তাছাড়া এ পরিস্থিতিতে এইচএসসি পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমের সিলেবাস কিছুটা সংক্ষিপ্ত করার পক্ষেও মত দেন এ শিক্ষক। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোজাম্মেল হক শাহ্ বলেন, অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস পরিচালনা করা হলেও দরিদ্রপীড়িত এ অঞ্চলের বেশির ভাগ পরিবারের শিশু এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মতো ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রব বলেন, শিক্ষক বাতায়নসহ সংসদ টেলিভিশনে অনলাইনে ক্লাস চলছে, ছাত্রছাত্রীরা বাড়িতে বসে তা ফলো করে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্কুল-কলেজ খুলে দিলে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে ছাত্রছাত্রীরা কিছুটা উপকৃত হবেন।