আবুল কাসেম ভূঁইয়া
আমাদের দেশে রপ্তানি পণ্য তালিকায় পাট, চা, চামড়া, চিংড়ি, তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে। এসব পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে আমাদের দেশে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে। এসব প্রচলিত রপ্তানি পণ্যের তালিকার বাইরে এখন আমাদের দেশের বিভিন্ন ধরনের অপ্রচলিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। দেশের সীমিত সংখ্যক রপ্তানিকারক অত্যন্ত স্বল্প পরিসরে এসব অপ্রচলিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করছেন। এসব অপ্রচলিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিকের পরিত্যক্ত সামগ্রীর চিপস (প্লাস্টিকের গুঁড়া) টেক্সটাইল ববিন, প্লাস্টিক স্ট্রীপ, পুরাতন কম্পিউটার এবং টিভির প্লাস্টিক কভার, মাছের পোটকা, শুঁটকি, মাছের আঁশ, গরুর ভুঁড়ি, ফুলের ঝাড়ু, টেক্সটাইল ওয়েস্টেজ, জুটকটন, রিরোলিং মিলের স্ক্র্যাপ, নারিকেলের ছোবরাসহ বিভিন্ন ধরনের অপ্রচলিত পণ্য। বেশ কয়েক বছর আগেও এসব পণ্য আমাদের দেশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকত অথবা নষ্ট হয়ে যেত। এসব অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানিকারক কবির আহাম্মদ চৌধুরী (পান্না) বলেন, আমাদের দেশে এসব অপ্রচলিত পণ্যের বিদেশে চাহিদা থাকায় আমরা দেশের বেশ কয়েক জন রপ্তানিকারক সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে রপ্তানির উদ্যোগ গ্রহণ করি। আমাদের দেশে অপ্রচলিত পণ্যগুলোর চাহিদা রয়েছে চীন, হংকং, ভিয়েতনাম, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। আমাদের দেশে রপ্তানি করতে গিয়ে প্রথম প্রথম অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বর্তমানে এসব অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সরকারও আমাদের উত্সাহিত করছে এবং বিভিন্ন সহযোগিতা করছে। এসব অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানিতে সরকার ভর্তুকি পর্যন্ত দিয়েছেন। আগে যেখানে প্লাস্টিকের বোতল অথবা প্লাস্টিকের সামগ্রী ব্যবহারের পরে ফেলে দেওয়া হতো এখন যেখানে এসব প্লাস্টিকের সামগ্রী সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। প্লাস্টিক সামগ্রীর ওয়েস্টগুলো বিশেষ করে চীনে বেশি রপ্তানি করা হচ্ছে। প্লাস্টিকের ওয়েস্টগুলো দিয়ে উন্নতমানের প্লাস্টিক রূপ তৈরি করা হচ্ছে। টেক্সটাইলের পরিত্যক্ত ববিন দিয়ে প্লাস্টিক ফাইবার তৈরি করা হচ্ছে। পরিত্যক্ত ববিন দিয়ে প্লাস্টিক ফাইবার তৈরি করা হচ্ছে। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সামগ্রী দিয়ে ইদানীং আমাদের দেশেও প্লাস্টিক পাইপ তৈরি হচ্ছে। পরিত্যক্ত গাড়ির টায়ারগুলো আগে কোন কাজে আসত না। বর্তমানে এসব টায়ারগুলো বিশেষভাবে পরিষ্কার করে যে অবস্থায় থাকে সেই অবস্থায় রপ্তানি করা হচ্ছে। আমাদের দেশে জবাইকৃত গরুর ভুঁড়ি ফ্রোজেন করে চীনে রপ্তানি করা হচ্ছে। চীন এবং হংকং-এ গরুর ভুঁড়ির বেশ চাহিদা রয়েছে। সেসব দেশে গরুর ভুঁড়ির সুপ বেশ জনপ্রিয় বলে জানা যায়। মাছের পোটকা এবং মাছের আঁশ দিয়ে বিদেশে ওষুধ তৈরি করা হয়। অনেক উচ্চদামে মাছের পোটকা এবং আঁশ রপ্তানি করা হচ্ছে। পোশাক শিল্পের ওয়েস্ট কটনগুলোর বিদেশে বেশ চাহিদা রয়েছে। ওয়েস্ট কটন দিয়ে উন্নতমানের তুলা তৈরি করা হয়। টিভি এবং কম্পিউটারের প্লাস্টিক কভারের চাহিদা থাকায় এগুলো রপ্তানি করা হচ্ছে, আমাদের দেশে উত্পাদিত ফুলের ঝাড়ু দিয়ে বিদেশে ফ্লাওয়ার বেজ তৈরি করা হয়। প্রবাসে অবস্থানরত বাঙালিরা ফুলের ঝাড়ু দিয়ে গৃহস্থালির কাজ সমাধান করে থাকে। আমাদের দেশে অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে এসব অপ্রচলিত পণ্য শিল্পের রূপধারণ করতে যাচ্ছে। দেশের ক্ষুদ্র কুটির শিল্পগুলোকে সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দিয়ে মানসম্মত পণ্য উত্পাদনের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ দিতে হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে আমাদের বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার একটি দেশ। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলেই আমরা আরো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।
n লেখক : বীমা কর্মকর্তা