প্রিভেনটিভ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের পদ বাড়ানো জরুরি

গত ২৫ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১২০০ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ও ১৮০০ মেডিক্যাল টেকনিশিয়ানের পদ সৃষ্টির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রিভেন্টিভ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের পদ মাত্র ৩৫টি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দুই ধরনের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট রয়েছেন— প্রিভেন্টিভ ও কিউরেটিভ। রোগ নিরাময়ের পূর্বশর্ত হলো রোগ নির্ণয়। রোগ নির্ণয়ে কিউরেটিভ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের ভূমিকা অপরিসীম। তাঁদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে চিকিত্সকরা রোগীকে ওষুধ-পথ্য দিয়ে থাকেন। প্রিভেনটিভ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টরা এসআইটি—স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নামেই বেশি পরিচিত।

রোগ প্রতিকারের চেয়ে রোগ প্রতিরোধই উত্তম। তাই করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রচারণা  চালানো হচ্ছে—ঘরে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা। এগুলো জনসাধারণকে বোঝানোর জন্য মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা/কর্মচারী কিংবা স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন তাঁরা কেউই স্বাস্থ্যশিক্ষায় প্রশিক্ষিত নন। ইউনিয়নপর্যায়ে যেসব প্রিভেন্টিভ স্বাস্থ্যকর্মী (স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, পরিবার কল্যাণ সহকারী, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক) রয়েছেন, তাঁরা সবাই সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত। প্রিভেনটিভ স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে শুধু মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (এসআইটি) বা স্যানিটারি ইন্সপেক্টররাই স্বাস্থ্যশিক্ষাসহ মেডিক্যাল বিষয়ে তিন বছরের কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন। এই পদ আছে প্রতি উপজেলায় মাত্র একটি করে। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে স্বাস্থ্য সহকারী পদে কর্মরত থেকে মেধার ভিত্তিতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিন বছর মেয়াদি মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (এসআইটি) কোর্স সম্পন্ন করেছেন প্রায় ২৫০০ জন। এসআইটি-এর নতুন পদ সৃষ্টি না হওয়ায় তাঁরা নিয়োগ পাচ্ছেন না। গত বছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে তাঁদের মধ্য থেকে প্রায় ৪০০ জনকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রতি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যশিক্ষার জন্য সাময়িকভাবে পদায়ন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মাত্র তিন মাস কাজ করার পরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এলে পুনরায় স্বপদে ফেরত পাঠানো হয় তাঁদের।

মহামারি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে গাইডলাইন দিয়েছে তাতে চিকিত্সক, নার্স ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের অনুপাত ১ঃ৩ঃ৫। বাংলাদেশে এই অনুপাত পুরোপরি উলটো। আর প্রিভেনটিভ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের সংখ্যা অতি নগণ্য! পরিশেষে, করোনা ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় অবিলম্বে প্রতি উপজেলায় অন্তত তিনটি মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (এসআইটি)-এর পদ সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ডি এম হাবিব রহমান

স্বাস্থ্য সহকারী, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (এসআইটি), উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শিবচর, মাদারীপুর