খুলনায় তিন গুণ দামে বিক্রি হচ্ছে অক্সিজেন সিলিল্ডার

খুলনায় তিনগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার। করোনা আক্রান্ত রোগীদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় বর্তমানে অক্সিজেন অতিপ্রয়োজনীয় উপাদানে পরিণত হয়েছে। মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে তিনগুণ দামে অক্সিজেন কিনতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের।

খুলনায় ওষুধের সবচেয়ে বড় পাইকারি মার্কেট ‘হেরাজ মার্কেটে’ ১ দশমিক ৩৬ কিউবিক মিটারের অক্সিজেনসহ সেট বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায়। তিন মাস আগেও এই অক্সিজেন সিলিন্ডার পাওয়া যেত ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকায়। এছাড়া তিন মাস আগে রক্তের অক্সিজেন ও পালসের পরিমাণ নির্ণয় করার ছোট যন্ত্র অক্সিমিটার ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো মনিটরিং না থাকায় হেরাজ মার্কেটে বিক্রেতারা অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ সেটের ইচ্ছামতো দাম রাখছেন। বিভিন্ন অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিলিন্ডার, ফ্লোমিটার ও মাস্কের বাজার মূল্য ২৩ হাজার ৭১০ টাকা নির্ধারণ করলেও হেরাজ মার্কেটে ফাহিম সার্জিক্যালে ৩০ হাজার টাকা, ফেমাস সার্জিক্যালে ৩৫ হাজার ও সাকির সার্জিক্যালে ৩৩ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। এছাড়া সিলিন্ডার বাদে ফ্লোমিটার ও অন্যান্য সামগ্রীর দাম ৫ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৮ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। তবে এখানকার ব্যবসায়ীদের দাবি, অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। তারাই অক্সিজেনের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্র জানায়,  স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেড, লিন্ডা ও খুলনা অক্সিজেন        লিমিটেড খুলনার বাজারে অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে।

 স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেডের প্রতিনিধি সজিব রায়হান বলেন, করোনাকালীন সময়ে অক্সিজেনের চাহিদা দ্বিগুণ বেড়েছে। তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অক্সিজেনের দাম বৃদ্ধি করেনি। তিনি জানান, ১ দশমিক ৩৬ কিউবিক মিটারের অক্সিজেন সিলিন্ডার ১২০ টাকায় ও ৬ দশমিক ৮ কিউবিক মিটারের বড় সিলিন্ডার ৪১০ টাকায় রিফিল করা হচ্ছে।

নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা শামিম আশরাফ শেলি বলেন, তার এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় অক্সিজেন সিলিন্ডারের দরকার পড়ে। অনেক ঘুরে হেরাজ মার্কেট থেকে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনেছেন বলে জানান তিনি। এছাড়া আরো বেশ কয়েক জন অভিযোগ করে বলেন, খুলনায় করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অক্সিজেন সিলিন্ডার, অক্সিমিটার, নেবুলাইজারসহ প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল পণ্যের গলাকাটা ব্যবসা চলছে। শুধু তাই নয়, তিনগুণ বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির পরও তারা ক্রেতাদের কোনো রশিদ দিচ্ছে না। তারা ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি দাবি জানান।