অতিষ্ঠ বালি-পাথর ব্যবসায়ী চাঁদা না দিলেই নির্যাতন

সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সীমান্তে ধোপাজান বালু-পাথর মহাল থেকে টোল আদায়ের নামে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে। এই মহাল থেকে বালু-পাথর ভর্তি নৌকা নিয়ে ভাটি বা উজানে পড়লেই সেখানেও চাঁদা দিতে হয় পৃথক চক্রকে। কোনো কোনো স্থানে পুলিশের নামেও চাঁদাবাজি চলছে। চাঁদা না দিলেই নির্যাতন চলে। এলাকার শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, এবার  বন্যা ও করোনা ভাইরাসের কারণে বালি ও পাথর ব্যবসা লোকসানে। এর মধ্যে চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ।

কর্মকর্তারা বলেছেন, ধোপাজান মহালে বর্তমানে কোনো ইজারাদার নেই। বরিশালের বরগুনার বাল্কহেড চালক জসিম উদ্দিন বলেন, সুনামগঞ্জের ধোপাজান মহালে চাঁদা          দিতে দিতে হয়রান। ধোপাজানের উজান-ভাটি দুই স্থানেই নৌপুলিশের নামেও টাকা আদায় হয়। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বললেন, ধোপাজান বালু-পাথর মহাল বাংলা ১৪২৫ সালের পর আর ইজারা হয়নি। ইজরাদার হিসেবে অর্থ আদায় বেআইনি।

সুনামগঞ্জ জেলার বালু-পাথর মহালগুলোর অন্যতম ধোপাজান মহাল। গত ২০ বছর ধরে চাঁদাবাজ আর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে ইঁদুর বিড়াল খেলা চলছে। সূত্র মতে, সর্বশেষ খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ধোপজান নদীর ১৮২ হেক্টর বালু মহাল এলাকা খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় ৬ ইজারাদারের নামে ইজারা দেয়। তবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে মহালটি ইজারা হয়নি উচ্চ আদালতে একটি মামলার কারণে। আগের বছরের একজন ইজারাদার আজাদ মিয়া উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করে বলেছেন, তিনি এই মহাল ইজারা নিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন । একই সঙ্গে আগের ১৮২ হেক্টর বালু-পাথর মহাল ভোগদখল করতে থাকেন। পরে অন্যান্য লাইসেন্সধারীদের পক্ষে উচ্চ আদালতে পালটা রিট দায়ের  করা হয়। 

এই পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতে আজাদ মিয়ার রিট খারিজ হয়ে যায় গত বছর। ইজারাদার আজাদ মিয়ার পক্ষের লোকজন টোল আদায় বন্ধ করে দেন। কিন্তু স্থানীয়রা জানায়, কয়েক দিন পর আবার আগের মতোই টোল ট্যাক্স আদায় শুরু হয়। তবে আজাদ মিয়া  জানান, তার নাম ও রশিদ ব্যবহার করে কেউ টোল আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সুনামগঞ্জ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

এদিকে গত ৯ জুন বিপুলসংখ্যক পুলিশ নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রশাসনের একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নদীতে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও জরিমানা আদায় করলেও স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী বলেন, কয়েক দিন আগে তার ১৫ হাজার ফুটের বাল্কহেড লোড দিলে  প্রতিফুটে ১ টাকা ৫০ পয়সা হিসাবে টোল-ট্যাক্স আদায় করে নেয়।

সুনামগঞ্জের টুকেরঘাট নৌফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. রকিবুল ইসলাম  বলেন, কয়েক দিন আগেও নৌপুলিশ বালুবোঝাই নৌকায় চাঁদাবাজির সময় নৌকাসহ কয়েক জনকে আটক করে। সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি শহীদুর রহমান বলেন, ধোপাজান মহালেও  চাঁদাবাজির কথা শুনেছি। এসব ঠেকানোর জন্য পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। কাউকে ছাড় নয়।