টানা ৩২ দিন পর দেশে করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ এর নিচে নেমে এসেছে। এর আগে গত ১ জুন ২২ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর আর মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ এর নিচে নামেনি। গত ৩০ জুন সর্বোচ্চ ৬৪ জনের মৃত্যুর রেকর্ড হয়। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৯ জন। এটিই ৩২ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যুর সংখ্যা। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট এক হাজার ৯৯৭ জন মারা গেলেন। এর মধ্য শুধু ঢাকা বিভাগেরই রয়েছেন এক হাজার ৪১ জন। দেশে করোনা ভাইরাসে প্রথম ১ হাজার জনের মৃত্যু ঘটতে লেগেছিল প্রায় তিন মাস, এরপর মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে তা ২ হাজার ছুঁইছুঁই অবস্থায় পৌঁছেছে।
নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘দেশে করোনা শনাক্তের ১১৯তম দিনে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরো ৩ হাজার ২৮৮ জন। মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৭৯ জন। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ১৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ। যা আগের দিনের চেয়ে ১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ বেশি। শনাক্তের বিবেচনায় গতকাল মৃত্যু ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। যা শুক্রবারের চেয়ে গতকাল শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ কম।’
অধ্যাপক ডা. নাসিমা জানান, ‘করোনায় এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগে ৫২১ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০১ জন, খুলনা বিভাগে ৮২ জন, বরিশাল বিভাগে ৬৭ জন, সিলেট বিভাগে ৮৪ জন, রংপুর বিভাগে ৫৩ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৮ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ৬০ ঊর্ধ্ব ৪৩ দশমিক ৫২ শতাংশ, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২৯ দশমিক ০৪ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৪ দশমিক ৭২ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সি ৭ দশমিক ৪১, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ দশমিক ২০ শতাংশ এবং ১০ বছরের নিচে শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ। মৃতদের মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৫৮৭ জন বা ৭৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং নারী ৪১০ জন বা ২০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। করোনায় প্রথম মৃত্যুর ৮৪ দিন পর গতকাল ৪ জুলাই মৃতের সংখ্যা দুই হাজারের কাছে পৌঁছে গেল। এই হিসেবে মৃতের সংখ্যা প্রথম ৫০০ ছাড়াতে সময় লেগেছিল ২ মাস ৭ দিন। পরের ৫০০ জনের মৃত্যু ঘটে ১৬ দিনের মধ্যে। তার পরের ৫০০ জনের মৃত্যু ঘটে ১২ দিনে। মৃতের তালিকায় আরো ৪৯৭ জন যোগ হতে সময় লাগল ১৩ দিন।’
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৬৭৩ জন। যা শুক্রবারের চেয়ে ১ হাজার ৬৭ জন বেশি। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭০ হাজার ৭২১ জন। গতকাল শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৪৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে গতকাল সুস্থতার হার শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ বেশি।’ ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৮৭১টি। যা আগের দিনের চেয়ে ৯১০টি কম। নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৪ হাজার ৭২৭টি। যা আগের দিনের চেয়ে ৭৭টি বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ জন হাসপাতালে ও ১ জন বাড়িতে মারা যান। তিন জনকে হাসপাতালে আনার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ৯ জন ঢাকা বিভাগের, ৪ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩ জন খুলনা বিভাগের, ৭ জন রাজশাহী বিভাগের, ১ জন ময়মনসিংহ বিভাগের, ৩ জন সিলেট বিভাগের ও ২ জন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা। এদের মধ্যে দুই জনের বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি। এ ছাড়া ১ জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ১১ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ৯ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৪ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ছিল ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।’ অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘০১৩১৩-৭৯১১৩০, ০১৩১৩-৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯ এবং ০১৩১৩৭৯১১৪০ নম্বরে ফোন করে হাসপাতালে কতটি শয্যা খালি আছে, আইসিইউ শয্যা খালি আছে কি না জানা যাবে।’