আন্তর্জাতিক রুটে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চালুর এক পক্ষকালের মাথায় হোঁচট খেল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বিভিন্ন গন্তব্যে পরিকল্পিত ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বিমান। আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত লন্ডন, দুবাই ও আবুধাবি রুট ছাড়া সমস্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে আগামী ৩১ আগস্ট অবধি।
বিমানের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তারের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীসংকট ও ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি জটিলতার কারণে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। বিমান করোনা-পূর্ব সময়ে বিশ্বের যে ১৭টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করত, তার অনেকগুলো দেশেই এখনো বিদেশি যাত্রী পরিবহনের জন্য আকাশপথ উন্মুক্ত করা হয়নি। ল্যান্ডিং পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। অধিকাংশ দেশে কেবল ট্রানজিট যাত্রী ও রেসিডেন্স পারমিটধারীরা ছাড়া যাতায়াত করতে পারছেন না। তাই স্বাভাবিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনা এখন সম্ভব নয়। করোনার আতঙ্ক থাকায় যাত্রীসংকট চলছে।
করোনার কারণে প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর গত ২১ জুন ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা ফ্লাইট দিয়ে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে বাংলাদেশ বিমান। প্রথম দিনে যাত্রী ছিল ১৮৭ জন। এরপর নতুন কোনো রুটে যায়নি বিমান। আগামীকাল সোমবার ঢাকা-দুবাই রুটে এবং মঙ্গলবার ৭ জুলাই ঢাকা-আবুধাবি রুটে ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। তাই বাংলাদেশ বিমান তাদের মোট ১৭টি রুটের মধ্যে আপাতত তিনটি রুটেই ফ্লাইট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ থাকছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বির হোসেন জানান, ঢাকা-দুবাই সপ্তাহে চার দিন (সোম, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনিবার) এবং ঢাকা-আবুধাবি রুটে মঙ্গল, বুধ, শুক্র ও রবিবার নিয়মিত বিমানের ফ্লাইট চলবে। অন্যদিকে গত ১৬ জুন কাতার এয়ারওয়েজ ঢাকা থেকে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। এরপর পর্যায়ক্রমে এমিরেটস, তার্কিশ, এয়ার আরাবিয়া ও মালিন্দো এয়ারকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।
ঢাকা থেকে এমিরেটসের নিয়মিত ফ্লাইট শুরু হয় ২৪ জুন। তার্কিশ এয়ারলাইনস ৭ জুলাইয়ের পর ফ্লাইট চালু করবে। সাড়ে তিন মাস বন্ধ থাকার পর গতকাল শুক্রবার ঢাকা রুটে ফ্লাইট চালু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিমান প্রতিষ্ঠান এয়ার আরাবিয়া। ৩ জুলাই মধ্যরাতে তাদের প্রথম ফ্লাইটটি ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এয়ার আরাবিয়ার একটি ফ্লাইট শারজাহ থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় আসে, ফের যাত্রী নিয়ে শারজাহ বিমানবন্দরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে।
ঢাকা থেকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ার গ্রুপের মালিকানাধীন মালিন্দো এয়ার ও শ্রীলঙ্কার মিহিন লঙ্কা এয়ারলাইনস। তবে কবে থেকে যাত্রীসেবা দেওয়া হবে সেই ঘোষণা দেয়নি বিমান সংস্থা দুটি। জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে মালিন্দো এয়ার। অন্যদিকে মিহিন লঙ্কা এয়ারলাইনস সপ্তাহে একটি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মোহাম্মদ সোহেল কামরুজ্জামান জানান, মালিন্দো এয়ারে চড়ে কেবল ট্রানজিট যাত্রী ও মালায়েশিয়ার রেসিডেন্স পারমিটধারীরা যাতায়াত করতে পারবেন। বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকেরা এখনই মালয়েশিয়ায় যেতে ও দেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন না। মালিন্দো এয়ারের স্টেশন ম্যানেজার বলেন, ‘এখনো ফ্লাইট শিডিউল ঠিক হয়নি। তবে শিগিগর যাত্রীসেবা শুরু করব।’