গোপালগঞ্জে বিকাশ প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্য গ্রেফতার

গোপালগঞ্জে আন্তঃজেলা বিকাশ প্রতারকচক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরা প্রতারণার ফাঁদ পেতে বিকাশ গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে সিমসহ ১১টি মোবাইল সেট ও বিকাশ প্রতারণার সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা গত কয়েক মাসে প্রায় ৮৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর গ্রামের গোবিন্দ শীল, ফরিদপুরের সালথার বড় খারদিয়া গ্রামের মো. শামসুল হক ওরফে হামিম খান, মো. হুসাইন মীর ও জয়নাল আবেদীন ফকির এবং ভাঙ্গার ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামের সুশান্ত মণ্ডল। শুক্রবার গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে এক দল পুলিশ ভাঙ্গা, সালথা, নগরকান্দা, শিবচর ও মুকসুদপুরে অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে  গোপালগঞ্জ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা গোপালগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছানোয়ার হোসেন জানান, ‘প্রতারকচক্র টুঙ্গিপাড়ার গোপালপুরের প্রফুল্ল মণ্ডলের কাছ থেকে ৩৬ হাজার ৩৭৫ টাকা, গোপালগঞ্জের রেজাউল করিমের কাছ থেকে ২২ হাজার ৭২৬ টাকা, রহিমা খাতুনের কাছ থেকে ২০ হাজার ৩২৫ টাকা, খালেদা বেগমের কাছ থেকে ২২ হাজার ৯০৫ টাকাসহ আরো বিভিন্নজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেন। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্তরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। প্রতারকচক্র লটারিপ্রাপ্তির মিথ্যা প্রলোভনও দেখায়। বিভিন্ন জেলায় তাদের সদস্য রয়েছেন। এরা বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টের দোকানে গিয়ে গোপনে কৌশলে বিকাশ রেজিস্ট্রার হতে গ্রাহকদের বিকাশ নম্বরের ছবি তুলে সংগ্রহ করেন। ভিন্ন জেলায় অবস্থানরত তাদের টিমের কাছে এটি প্রেরণ করেন। পরে তারা বিকাশ এজেন্ট/বিকাশ হেড অফিসের পরিচয়ে ফোন করে বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে বিকাশ পিন কোড সংগ্রহ করে গ্রাহকদের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ট্রান্সফার করেন। প্রতারকচক্রের অন্য সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’