‘বন্ধুর বেপরোয়া গাড়ি চালানোতেই দুর্ঘটনা ঘটে, প্রাণ যায় রাকিবের’

এক বছর আগে রাজধানীর মগবাজার ফ্লাইওভারের ওপর রহস্যজনক গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হয় স্কুল শিক্ষার্থী ইফরান খান রাকিব (১৬)। এ ঘটনায় রাকিবের বাবা দীল মোহাম্মদ খানের দায়ের করা হত্যা মামলাটির চার্জশিট চূড়ান্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক মুজিবুর রহমান বলেন, বিআরটিএ’র মোটর ভেহিক্যাল পরীক্ষায় ‘বেপরোয়া গতিতে প্রাইভেটকারটি চালানোর ফলে সেটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে’—এমন রিপোর্ট দিয়েছে। গাড়িটি চালাচ্ছিল রাকিবের বন্ধু সাকিবুর রহমান সাদী। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে সাদী। ঐ গাড়িতে সাদী ও রাকিব ছিল। পেছনে অপর গাড়িতে ছিল রাফিন, সাবাব, আলামিন ও রাফি নামে চার জন। রাকিবের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, গাড়ি দুর্ঘটনা থেকে তার শরীরে আঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। সেই আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ কারণে এ মামলায় সাদীকে একমাত্র আসামি করে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

অপরদিকে রাকিবের বাবার অভিযোগ—হত্যার ঘটনায় আসামি সাদীকে রিমান্ডে নিতে পিবিআই চরম গাফিলতি করেছে। আসামিকে রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে শুনানির সময় তদন্ত কর্মকর্তা উপস্থিত হননি। যে গাড়িটির দুর্ঘটনায় রাকিব নিহত হয়েছে বলে বলা হচ্ছে, সেই গাড়ির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়নি। এমনকি ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ গায়েব করা হয়েছে। তেজগাঁও জোনের পুলিশ কর্মকর্তারা মামলার এজাহার পালটে দিয়েছেন। তার ছেলের সঙ্গে যারা স্বার্থের কারণে মিশত তারা দুষ্টু প্রকৃতির। ইয়াবা বিক্রির কাজে গাড়িটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় বন্ধুরূপী শত্রুরাই ডেকে নিয়ে রাকিবকে হত্যা করে সড়ক দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়েছে।

চার্জশিটে বলা হয়, গত বছরের ৬ জুলাই রাতে সিদ্ধেশ্বরীর অ্যাপার্টমেন্ট থেকে নিজেদের সাদা রঙের প্রাইভেটকার নিয়ে বের হয় স্কুলছাত্র ইফরান খান রাকিব (১৬)। সে নিজেই গাড়িটি চালাচ্ছিল। এরপর তার সঙ্গে মিলিত হয় সাদী, রাফিন, সাবাব, জয়সহ আরো পাঁচ-ছয় জন। এদের মধ্যে সাদী মগবাজারের কোনো একটি স্থান থেকে রাকিবের গাড়িতে ওঠে। মগবাজার ফ্লাইওভার দিয়ে বেইলি রোডে অফিসার্স ক্লাবের সামনে আসার পর রাকিব নিজেকে অসুস্থ মনে করায় গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসে সাদী। রাত ১০টার দিকে অফিসার্স ক্লাব থেকে সাদী, রাফিন ও সাবাব তিনটি প্রাইভেটকারে মগবাজার ফ্লাইওভার দিয়ে রওনা দেয়। গাড়িটি ফ্লাইওভার থেকে বিজিপ্রেসের দিকে নামার সময় দুর্ঘটনায় সেটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। পুলিশ গিয়ে রাকিবকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। সাদীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে আটক দেখায়। রাকিবকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।