শ্যামলী তানজিন অনু
কোভিড-১৯-এর বিস্তার ঠেকাতে দেশে দেশে চলছে লকডাউন। অনেকেই লকডাউন শিথিল করছে কিন্তু পূর্ণমাত্রায় কেউ কাজ শুরু করতে পারেনি। সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে মানুষকে ঘরে থাকতে বলায় থমকে গেছে যানবাহন ও কলকারখানার চাকা। সেই সঙ্গে থেমে গেছে অর্থনীতিও। এ অবস্থায় দেশে দেশে চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছে কোটি কোটি মানুষ।
বাংলাদেশে বর্তমানে বেকারের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা। যেখানে ইউরোপ-আমেরিকার মতো দেশে বেকারত্বের ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, সেখানে এশীয় দেশগুলো বাদ যাবে কীভাবে। মধ্যপ্রাচ্যে এরই মধ্যে অনেক বাংলাদেশি কর্মহীন হয়ে পড়েছে। মালদ্বীপেও একই সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
বৈশ্বিক মহামারি করোনায় ক্রমবর্ধমান হারে মানুষই কেবল মরছে এমনটা নয়। সেই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতিকে দমিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে অর্থনীতি যে মন্দার সম্মুখীন তা অতীতের যে কোনো মহামন্দাকে ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর তাই অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব কীভাবে মোকাবিলা করা যায় সেটা এখন ভাবার বিষয়। তার সঙ্গে ভাবতে হবে করোনা-পরবর্তী অর্থনীতি পুনর্গঠন নিয়েও।
ভয়াবহ এই করোনার কারণে দেশ তথা সারা বিশ্বে বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হবে। আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা আইএলও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই ভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে তাতে ৩৩০ কোটি কর্মক্ষম মানুষের আংশিক বা পুরোপুরি বেকার হয়ে যেতে পারে।
আইএলও আরো বলেছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন সংকট আর আসেনি। এছাড়া গত বছর ডিসেম্বরে আড়াই কোটি মানুষের নতুন করে বেকার হয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। ক্রমেই করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দীর্ঘ হচ্ছে।
উন্নয়নশীল ও অনুন্নত উভয় দেশগুলোর জন্য বেকারত্ব প্রধান সমস্যা। যে কোনো দেশে উন্নয়নের পথে বড় বাধা হলো বেকারত্ব। করোনার প্রভাবে বিশ্বের ছোট-বড়-মাঝারি সব শিল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর এই ক্ষত সারাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যার ফলে বিশ্ব বেকারত্বের মতো বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। যেই সমস্যা তাত্ক্ষণিকভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না। কারণ বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা বছরের পর বছরের ফল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ কোটি ২২ লাখ নাগরিক বেকারভাতা দাবি করেছে। বেকার সমস্যা কতটা ভয়াবহ তা সহজেই অনুমেয়।
বিশ্ব অর্থনীতির মূল ধাক্কাটা খাবে কর্মী ছাঁটাইয়ের মধ্য দিয়ে। গত মার্চে স্পেনে বেকারত্বের সংখ্যা এযাবত্কালের সর্বাধিক। দেশটির সরকারি হিসাবে বর্তমানে বেকারত্বের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ। তার মানে এক মাসে বেকারত্বের হার বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি। এক পরিসংখ্যানের হিসাব মতে লকডাউনের শুরু থেকে স্পেনে চাকরি হারিয়েছে ৮ লাখ ৯৮ হাজার ৮২২ জন। যার মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার অস্থায়ী কর্মী।
বিশ্বের কয়েক দেশ বাদ দিলে সব দেশেই প্রায় করোনায় প্রাণহানির সঙ্গে বিপর্যস্ত হচ্ছে অর্থনীতি।
অর্থনীতির একটি দিক চাকরির বাজার, যা অর্থনীতিকে পুনর্গঠিত করতে পারে। তবে করোনার কারণে এই দিকের টালমাটাল অবস্থা। বিশ্বে দৈনিক করোনার ছোবলে প্রাণ হারাচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। চীনের অবস্থা সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ ছিল। তবে সেই ঝুঁকি চীন কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যতিব্যস্ত সারা বিশ্ব। এই পরিস্থিতি যদি দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না আসে, তাহলে অর্থনীতি আরো বড় বিপদের সম্মুখীন হবে। মূল কথা, করোনায় যে হারে বেকারত্ব বাড়ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই অবস্থা চলমান থাকলে দেশ তথা বিশ্ব অর্থনীতির সিংহভাগ অচল হয়ে পড়বে।
n শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া