খুলনায় বেসরকারি চার হাসপাতালে চালু হচ্ছে করোনা ইউনিট

খুলনা অফিস

খুলনায় চারটি বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগীর চিকিত্সা দেওয়া হবে। এসব হাসপাতালে ৫০টি করে আলাদা বেড প্রস্তুত করে করোনা ইউনিট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) পরিচালিত আরো দুটি হাসপাতালেও করোনা ইউনিট চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। গতকাল রবিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে গঠিত খুলনা জেলা কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় জানানো হয়, খুলনার গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একটি অংশে ৫০টি করে শয্যায় কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিত্সাসেবার ব্যবস্থা করা হবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কিচিত্সাসেবা চালু করা হবে। পাশাপাশি খুলনা জেনারেল (সদর) হাসপাতালের চতুর্থ তলায় ৪২টি শয্যা অতি দ্রুততার সঙ্গে উপযোগী করতে সিভিল সার্জন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এছাড়া কেসিরি আওতায় খালিশপুরের লাল হাসপাতাল এবং তালতলা হাসপাতাল করোনা রোগীর চিকিত্সায় ব্যবহার করা যায় কি না তার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।

খুলনার করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় আরো একটি পিসিআর ল্যাব এবং কোভিড হাসপাতালে দ্রুত হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা স্থাপনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়াও উপযুক্ত জায়গা পেলে খুলনার রোটারি ক্লাব কোভিড-১৯ চিকিত্সায় জন্য ১০০টি শয্যার যাবতীয় চিকত্সা সরঞ্জামাদি দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়। সভায় বলা হয়, খুলনা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবের করোনা শনাক্তের পরীক্ষার রিপোর্ট (নেগেটিভ ও পজিটিভ উভয় ক্ষেত্রে) অতি দ্রুততার সঙ্গে মোবাইল ফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমে সিভিল সার্জনের দপ্তর জানানোর ব্যবস্থা করবে।

খুলনা সদর হাসপাতালের চতুর্থ তলায় ৪২টি শয্যা খুব দ্রুততার সঙ্গে প্রস্তুত করে কোভিড-১৯ রোগীর চিকিত্সা উপযোগী করে তোলা হবে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে করোনা শনাক্ত পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত এসএমএস-এর মাধ্যমে জানানো হবে। সিটি করপোরেশনের খালিশপুরে লাল হাসপাতাল এবং তালতলা হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিত্সা দেওয়া যায় কি না, সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। খুলনার কোভিড হাসপাতালে দ্রুত হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা স্থাপন এবং করোনা ভাইরাস শনাক্তে আরো একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘোষিত তিনটি রেডজোন ১৪ দিন পরে ইয়োলো জোনে রূপান্তরিত হলো কি না তা অনুসন্ধান করা হবে। রোটারি ক্লাব কোভিড-১৯ রোগীর চিকিত্সার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করবে। সভায় কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘কোভিড-১৯ চিকিত্সায় সরকারি হাসপাতালে ধারণক্ষমতা সীমিত। এ কারণে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতালের একটি অংশে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিত্সাসেবা দেওয়া হবে।’

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সভায় জুম অ্যাপের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসালম, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সী মো. রেজা সেকেন্দার, খুলনা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ, খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জিয়াউর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউসুপ আলী, পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার ম. জাভেদ ইকবাল প্রমুখ।