কাচারীপাড়া থেকে ময়নাকুড়ি সড়ক
মো. শামীম হোসেন বাবু, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জ উপজেলার এলজিইডির আওতাধীন রাস্তা কাদাপানিতে একাকার হয়ে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। সড়ক দেখে মনে হয় কোনো কৃষক আউশ ধান রোপণের জন্য জমি তৈরি করে রেখেছেন। বাহাগিলি ইউনিয়নের কাচারীপাড়া থেকে ময়নাকুড়ি যাওয়ার রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাহাগিলি, মাগুরা, রণচন্ডি এবং গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার সড়ক একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব সড়ক কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। প্রচণ্ড কাদায় চলতে গিয়ে অনেকেই পড়ে গিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার আগেই বাড়িতে ফিরে আসতে বাধ্য হন। দুর্ভোগ থেকে মুক্তির আশায় বছরের পর বছর ভোগান্তির স্বীকার এসব এলাকার বাসিন্দা জনপ্রতিনিধিসহ ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানালেও কোনো লাভ হয়নি।
মাগুরা ইউনিয়নের দোলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ভ্যানচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, এক দিন ভ্যান চালাইতে না পারলে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে পারি না। কয়েক দিন থেকে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে রাস্তা দিয়ে ভ্যান ঠেলে নিয়ে যাওয়া যায় না। ভ্যান নিয়ে বাড়ির বাইরে যেতে না পারলে পেটে ভাত যায় না। বাহাগিলি ইউনিয়নের বাসিন্দা আফিজার রহমান বলেন, কাচারীপাড়া থেকে ময়নাকুড়ি যাওয়ার রাস্তাটি বেহাল হওয়ায় দুর্ভোগে আছি। গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিক বলেন, অবৈধ ট্রাক্টরের পিছনে বগি তৈরি করে বালুমাটিসহ অন্যান্য জিনিস পরিবহন করার কারণে রাস্তাগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে নদীভাঙনের পাশাপাশি যেসব রাস্তাঘাট ভেঙে যাচ্ছে। আমি প্রতিদিন সেগুলো পরিদর্শন করে স্ব স্ব বিভাগকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।
উপজেলা প্রকৌশলী মজিদুল ইসলাম বলেন, শুধু গ্রামীণ রাস্তাগুলো সংস্কার করার জন্য নতুন করে একটি প্রকল্প চালু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে সব গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার করা হবে। তার পরও জরুরি ভিত্তিতে যে সব রাস্তা সংস্কার করা দরকার সেগুলো সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।