উগ্র বামদের পরাজিত করবই

স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ট্রাম্প

ইত্তেফাক ডেস্ক

বর্ণবাদসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেশব্যাপী বিক্ষোভরতদের ‘উগ্র বামপন্থি’ আখ্যা দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তাদের পরাজিত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক বিভিন্ন স্মারক ও ভাস্কর্যকে লক্ষ্যবস্তু বানানো এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরো বলেন আমেরিকান ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা বজায় রাখতে লড়াই চালাবেন তিনি।

১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির জাতীয় ক্যালেন্ডারে দিনটি খুবই গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়। প্রথাগতভাবে প্রেসিডেন্টরা এদিন নিজেদের ভাষণে ঐক্যের আহ্বান জানান। ট্রাম্পের ভাষণের পর বি-৫২ বোম্বার, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ নানা বিমানের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার হোয়াইট হাউজ লনে বক্তব্য রাখার সময়ে ট্রাম্প বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্যবস্তু বানান। সম্প্রতি পুলিশ  হেফাজতে নিরস্ত্র অবস্থায় কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর থেকেই এই বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজপথে থাকছেন। তাদের লক্ষ্য করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ওই উগ্র বামপন্থি, নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী, লুটপাটকারীদের পরাজিত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছি। এরা জানে না যে কী করছে। এরা জানে না তাদের জন্য কী পরিণতি অপেক্ষা করছে। আমরা কোনো ক্ষুব্ধ জনগোষ্ঠীকে আমাদের ভাস্কর্য ভাঙতে কিংবা আমাদের ইতিহাস মুছে ফেলতে দেব না।’

উল্লেখ্য, বর্ণবাদবিরোধী সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময়ে কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীরা দাস নির্যাতনের ইতিহাস বহন করা বিভিন্ন ভাস্কর্য ও প্রতীক উপড়ে ফেলেছে। এমনকি হোয়াইট হাউজের কাছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের ঘোড়ায় চড়া মূর্তিও ভেঙে ফেলার চেষ্টা হয়েছে।

ট্রাম্প যেখানে দঁড়িয়ে ভাষণ দিয়েছেন তার কয়েক গজ দূরে সড়ক অবরোধ করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনকারীরা। হোয়াইট হাউজের সামনের ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার প্লাজা ও পাশের লিংকন মেমোরিয়ালের আশপাশের সড়কগুলোতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখায় তারা। এসব স্থানে ট্রাম্প সমর্থকরা ‘আমেরিকা’, ‘আমেরিকা’ বলে স্লোগানে পালটা বিক্ষোভ দেখালেও দুই পক্ষের মধ্যে হিংসাত্মক কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।