ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আছিম-পাটুলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কালভার্ট নির্মাণ কাজে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। ফেসবুকে বাঁশ ব্যবহারের ছবি ভাইরাল হওয়ায় গত শনিবার বিকালে প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন ময়মনসিংহ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এ কে এম গালিভ খান। তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ছিদ্দিককে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ময়মনসিংহ স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি টেকনিক্যাল টিম।
জানা গেছে, গত অর্থবছরে আছিম-পাটুলী ইউনিয়নে এলজিএসপি প্রকল্পের ২৫ লাখ ৫৬ হাজার ১২ টাকায় ১০টি প্রকল্প করা হয়। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এলঙ্গি-কান্দানিয়া সড়কের কালির চালা থেকে পান্নাবাড়ী সড়কের তালেব আলীর জমির পাশে ২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়। ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী গত শুক্রবার বন্ধের দিন রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিক দিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করেন। প্রকল্পটির ভিত্তি ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশ (কাভারি) ব্যবহার করা হয়। একই সড়কের খাপসার খালে দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে আরেকটি ইউ ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য রাশিদা খাতুন। তিনি নিজেই প্রকল্পের কাজটি করাচ্ছেন। কিন্তু সেখানেও ঢালাইয়ে কোনো রড ব্যবহার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন কাজে নিয়োজিত একজন শ্রমিক। আছিম-পাটুলী ইউনিয়নে প্রকল্প কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারসহ ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। নির্মাণ কাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজের কোনো তদারকি নেই বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ।
ফেসবুকে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের ছবি ভাইরাল হলে ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলীর ছেলেরা শাবল দিয়ে ঢালাই ও বাঁশ তুলে নিয়ে যায়।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম সাইফুজ্জামান সাইফুল বলেন, মোহাম্মদ আলী ওরফে আলম মেম্বার এ কালভার্টের কাজ করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছেন। ইউপি সচিব হাজেরা খাতুন বলেন, এলজিইডির প্রকৌশলী ও আমাদের উপস্থিতিতে ঢালাই করার নিয়ম থাকলেও তারা বন্ধের দিন ঢালাই করেছেন। এটা ঠিক হয়নি।
উপপরিচালক এ কে এম গালিব খান জানান, একটিতে বেইস নির্মাণে রড ব্যবহার করা হয়নি, আরেকটিতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। ইউ ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল ছিদ্দিক জানান, এরই মধ্যে তদন্ত শেষ হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।