এক দিনে আরো অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশে সরকারি হিসাবে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেল। দেশে করোনা শনাক্তের ১২০তম দিন গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে আরো ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৫২ জন। শনিবারের চেয়ে গতকাল ২৬ জন বেশি মারা গেছেন। শনিবার ২৯ জনের মৃত্যু হয়। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় গতকাল মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। শনিবারের চেয়ে গতকাল মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বেশি।
গতকাল রবিবার করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত ৮ মার্চ, তার ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। প্রায় এক মাস পর মৃতের সংখ্যা ২০ এপ্রিল ১০০ ছাড়িয়েছিল। মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়ায় গত ২৫ মে। গত ১০ জুন মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়ায়। দেড় হাজার ছাড়িয়েছিল ২২ জুন। প্রথম মৃত্যুর ৮৫ দিন পর ৫ জুলাই মৃতের সংখ্যা ২ হাজারের ঘর ছাড়িয়ে গেল। এই হিসেবে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়াতে সময় লেগেছিল দুই মাস ৭ দিন। পরের ৫০০ জনের মৃত্যু ঘটে ১৬ দিনের মধ্যে। তার পরের ৫০০ জনের মৃত্যু ঘটে ১২ দিনে। মৃতের তালিকায় আরো ৫০০ জন যোগ হতে সময় লাগল ১৪ দিন। দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড আছে ৬৪ জনের। সেই তথ্য জানানো হয় ৩০ জুনের বুলেটিনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৯৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৭৩৮ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শনিবারের চেয়ে গতকাল ৫৫০ জন কম শনাক্ত হয়েছেন। শনিবার ১৪ হাজার ৭২৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ৩ হাজার ২৮৮ জন। ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, দেশে এ পর্যন্ত মোট ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ লাখ ৬২ হাজার ৪১৭ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ২০ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯০৪ জন। শনিবারের চেয়ে গতকাল ৭৬৯ জন কম সুস্থ হয়েছেন। শনিবার সুস্থ হয়েছিলেন ২ হাজার ৬৭৩ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭২ হাজার ৬২৫ জন। তিনি জানান, গতকাল শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৪ দশমিক ৭২ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৪৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে গতকাল সুস্থতার হার শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৯৬৪ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৩ হাজার ৮৭১ জনের। শনিবারের চেয়ে গতকাল ৯৩টি নমুনা বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৬৮টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৩ হাজার ৯৮৮ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১৪ হাজার ৭২৭ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় আগের দিনের চেয়ে ৭৩৯টি কম নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে সাভারের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি ও ঢাকার সিআরএল ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে সাধারণ শয্যায় ভর্তি আছেন ৭ হাজার ১১৩ জন কোভিড-১৯ রোগী, আইসিইউতে ভর্তি আছেন ৩৫৫ জন। তাদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭১৭ জন। এই সময়ে ৪৪৯ জন রোগীকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। সারা দেশে আইসোলেশনে রয়েছেন ১৬ হাজার ৭১৫ জন রোগী। হাসপাতালে ভর্তির জন্য ০১৩১৩৭৯১১৩৮-৪০ অথবা ০১৩১৩৭৯১১৩০ নম্বরে ফোন করলে তথ্য পাওয়া যাবে বলে ডা. নাসিমা সুলতানা জানান।
নাসিমা সুলতানা বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ৪১ জনের এবং বাড়িতে থাকা অবস্থায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯ জন ঢাকা বিভাগের, ১৩ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, এক জন রাজশাহী বিভাগের, দুই জন সিলেট বিভাগের, ছয় জন খুলনা বিভাগের, আট জন রংপুর বিভাগের, পাঁচ জন বরিশাল বিভাগের এবং এক জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। এই ৫৫ জনের মধ্যে ১২ জনের বয়স ছিল ৭০ বছরের বেশি, এক জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম। এছাড়া ৯ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ১৩ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ১৭ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং তিন জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ছিল। ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, দেশে এ পর্যন্ত যে ২ হাজার ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ১ হাজার ৬২৪ জন পুরুষ, ৪২৮ জন নারী। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৬০ জন ঢাকা বিভাগে, ৬৩৪ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ১০২ জন রাজশাহী বিভাগের, ৮৬ জন সিলেট বিভাগের, ৬১ জন রংপুর বিভাগের, ৮৮ জন খুলনা বিভাগের, ৭২ জন বরিশাল বিভাগের এবং ৪৯ জন ময়মনসিংহ বিভাগের। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির উপাত্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় রবিবার দুপুর পর্যন্ত বিশ্বে ১ কোটি ১২ লাখ ৭৯ হাজার ৪৬৫ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৫ লাখ ৩১ হাজার ৫৬ জন।