৬২ হাজার গ্রাহককে ভূতুড়ে বিদ্যুত্ বিল

দেশে সম্প্রতি ৬২ হাজারের বেশি গ্রাহক ভূতুড়ে বিদ্যুত্ বিলের শিকার হয়েছেন। বিদ্যুত্ বিতরণকারী সংস্থাগুলো নিজেরা এ তথ্য জানিয়েছে। সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত বিল হাতে পেয়েছেন গ্রামীণ এলাকার জনগণ; যারা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) গ্রাহক। তবে ভুল বিদ্যুত্ বিলের প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি বলে মনে করছে ভোক্তা অধিকার আন্দোলনে জড়িত বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিরা। 

গতকাল রবিবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ভূতুড়ে বিদ্যুত্ বিল সম্পর্কে সরকারের অবস্থান এবং কাজ সম্পর্কে বক্তব্য তুলে ধরেন বিদ্যুত্ সচিব ড. সুলতান আহমেদ। তিনি জানান, ভূতুড়ে বিদ্যুত্ বিলের পেছনে ২৯০ জনকে চিহ্নিত করেছে বিদ্যুত্ বিভাগ গঠিত টাস্কফোর্স। তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিদ্যুত্ সচিব আরো জানান, জুনের মধ্যে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে জরিমানা বা বিলম্ব ফি ছাড়া বিল দেওয়ায় বিষয়ে গ্রাহকদেরকে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। আবাসিক খাতের জন্য এটি বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে।

টাস্কফোর্সের প্রতিবেদন থেকে জানানো হয়, সব মিলিয়ে ৬২ হাজার ৯৬ জন গ্রাহকের বিলে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) দুই কোটি ৯০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৩৪ হাজার ৬১১ জনের অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ৯ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৯ জন গ্রাহকের মধ্যে ১৫ হাজার ২৬৬ জন, ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ১০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৫ হাজার ৬৫৭ জন, নর্দান ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির  (নেসকো) ১৫ লাখ ৪৮ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ২ হাজার ৫২৪ জন, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) ১২ লাখ ১৩ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৫৫৬ জন, বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ৩২ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫ জনের মধ্যে ২ হাজার ৫৮২ জন অতিরিক্ত বিলের শিকার হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ড. সুলতান আহমেদ বলেন, গ্রাহকদের কাছে আমরা ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমরা সব সময়ই গ্রাহকবান্ধব। এবার যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে তা শিগগিরই পুনরুদ্ধার করতে পারবে বিতরণ কোম্পানিগুলো। ভুল সংশোধন করে ভবিষ্যতে বিতরণ কোম্পানিগুলো এ ধরনের সংকট সমাধানে শতভাগ মিটার রিডিং নিয়ে বিল করবে।

তিনি জানান, করোনা সংক্রমণের কারণে অনেক মিটার রিডার বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং করতে পারেনি। এজন্য এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ৬০১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ১২ জন বিদ্যুত্কর্মী মারা গেছেন। তবে পেশাদারিত্বের জায়গায় ছাড় দেবে না বিদ্যুত্ বিভাগ। অতিরিক্ত বিল তৈরির জন্য যারা দায়ী বলে চিহ্নিত হয়েছে বা হবে তাদের বিরুদ্ধে চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং হবে।

ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, আমাদের কাছে ৪ হাজার ৩৩০টি বিলের অভিযোগ এসেছিল। কিন্তু আমরা নিজস্ব অনুসন্ধানে দেখেছি ১৫ হাজার গ্রাহকের অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে। তাদের সবার বিল সমন্বয় করা হয়েছে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পিডিবির চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন, আরইবির  চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঈন উদ্দিন এবং পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দেশের ছয়টি বিদ্যুত্ বিতরণকারী সংস্থার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ব্যবহূত বিদ্যুতের পরিমাণের চেয়ে বেশি বিল দেওয়ার অভিযোগ উঠে দেশ জুড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুত্ বিভাগ একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গত ২৫ জুন একটি টাস্কফোর্স গঠন করে। বিতরণ সংস্থাগুলো অতিরিক্ত বিল তৈরির সংখ্যা ও কারণ ব্যাখ্যা করে টাস্কফোর্সকে জানায়। তবে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করেন এমন কয়েক জন জানান, গ্রাহকদের লিখিত অভিযোগের সংখ্যা এটি। মৌখিকভাবে জানানো তথ্য এখানে নেই। এছাড়া লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো অভিযোগের চেয়েও অতিরিক্ত বিলের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি।