করোনায় জাপানে কম মৃত্যুর রহস্য কী?

করোনা ভাইরাসে সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে জাপানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ১৯ হাজারের কিছু বেশি আর মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজারের কম। করোনা ভাইরাসে সাধারণত বয়স্ক মানুষের মৃত্যু বেশি হয়েছে। আর জাপানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ প্রবীণ হলেও মৃত্যুর সংখ্যা সেই অর্থে খুবই নগণ্য। জাপানে কোভিড-১৯-এ কম মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে তাই স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে রয়েছে কৌতূহল। এর কারণ হিসেবে কেউ বলছে এর পেছনে রয়েছে জাপানিদের মন-মানসিকতা, তাদের সংস্কৃতি। আবার কারো মত হলো, জাপানিদের অসাধারণ রোগ প্রতিরোধক্ষমতা।

মৃত্যুহারের দিক দিয়ে জাপানের পাশাপাশি রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামের নাম। কিন্তু জাপানকে নিয়ে মানুষের এই কৌতূহলের মূল কারণ এ বছরের শুরুর দিকে পৃথিবীর সব দেশেই যেখানে করোনা ভাইরাসের কারণে মৃত্যুর হার বেড়ে গেছে, সেখানে জাপানে মৃত্যুর হার একই সময়ে সার্বিক গড় মৃত্যুহারের চেয়ে কম ছিল। এপ্রিলে এই হার একটু বেশি থাকলেও ধারণা করা হয়েছে, জাপানে এ বছর মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৯-এর থেকে কম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।জাপানে মৃত্যুর হার কম থাকার বিষয়টি রহস্যজনক মনে হওয়ার কারণ করোনা মোকাবিলায় জাপান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো সর্বশক্তি প্রয়োগ করেনি। ফেব্রুয়ারি মাসে উহানে রোগীর সংখ্যা হুহু করে বেড়ে গেলে সারা বিশ্ব চীন ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করলেও জাপান চীনের সঙ্গে তার সীমান্ত ঠিকই খোলা রেখেছে। টোকিওতে বাস করা ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষের বেশির ভাগ চলাচলের একমাত্র বাহন ভিড়ে ঠাসা ট্রেন পরিষেবার ওপর নির্ভর করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার করোনা পরীক্ষা নীতিও সেইভাবে অনুসরণ করেনি। এখন পর্যন্ত জাপানে পরীক্ষা হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ৪৮ হাজার মানুষের।

জাপানের উপপ্রধানমন্ত্রী তারো আসো বলেন, জাপানের এই সাফল্যের কারণ জাপানিদের ‘আদর্শ আচরণ’। অনেক বিজ্ঞানীও মনে করেন, জাপানের ক্ষেত্রে একটা কিছু আছে, যা আলাদা। একটা কিছু, যা কোভিড-১৯ থেকে জাপানের মানুষকে রক্ষা করেছে। টোকিও ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক তাতসুহিকো কোদামা বলেন, জাপানে হয়তো আগে থেকেই কোভিড হয়েছে। কোভিড-১৯ নয়, তবে একই ধরনের জীবাণুর অতীত সংক্রমণ জাপানের মানুষকে ‘ঐতিহাসিক ইমিউনিটি’ দিয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের অনেক বিজ্ঞানী অবশ্য তাতসুহিকোর এই মন্তব্যকে গ্রহণ করেননি।

১৯১৯-এর ফ্লু মহামারির পর থেকে জাপানিরা ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফেস মাস্ক ব্যবহার করছে। জাপানে কারো কাশি হলে বা ঠান্ডা লাগলে সে অন্যদের সুরক্ষিত করতে সব সময় মাস্ক পরে। হয়তো জাপানিদের এই আচরণবিধিই তাদের করোনা মহামারি থেকে রক্ষা করে চলেছে।—বিবিসি