এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে জাপা ও ট্রাস্টের পৃথক কর্মসূচি

জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে দল ও ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্ট’ পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ১৪ জুলাই এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে জাপা দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি নিয়েছে। আর ট্রাস্টের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে তিন দিনের কর্মসূচি। তবে এরশাদপত্নী ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এবং তার ছেলে সাদ এরশাদ (রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য) আলাদা করে কোনো কর্মসূচি নেননি।  এরশাদপুত্র ও রংপুর-৩ আসনের এমপি সাদ এরশাদ গতকাল ইত্তেফাককে জানান, এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কর্মসূচির বিষয়ে তিনি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তার মতে, করোনা মহামারির মধ্যে বিষয়টি পারিবারিকভাবে পালন করলেই ভালো।

এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের গতকাল রবিবার তার বনানীর কার্যালয়ে দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যানদের সভা ডাকেন। জি এম কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ছিলেন পার্টির কো-চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূইয়া ও ক্বারি হাবিবুল্লাহ বেলালী এবং দপ্তর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ।

বৈঠক শেষে এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচির বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, ১৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টায় জাপা চেয়ারম্যান ও মহাসচিব কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বিমানযোগে রংপুরে যাবেন। সেখানে সকাল সাড়ে ১০টায় এরশাদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে যোগ দেবেন জি এম কাদের। বিকাল সাড়ে ৪টায় জাপার বনানী কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল হবে। এছাড়া অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজধানীর কাকরাইলে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল হবে। সারা দেশে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মিলাদ ও  দোয়া মাহফিলের আয়োজন করতে এবং সকালে সারা দেশে জাপার কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এরশাদ তার পুত্র এরিককে দেখভাল করার জন্য জীবিত থাকতে ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্ট’ গঠন করে যান। ট্রাস্টের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদ জানান, এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে গৃহীত তিন দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—১২ জুলাই রবিবার দিনব্যাপী কোরআনখানি ও এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ। পরদিন সব জেলা ও উপজেলা শহরের মসজিদে বাদ আসর মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। আর ১৪ জুলাই বাদ আসর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে এরশাদের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল। প্রসঙ্গত, এরিক তার মা বিদিশাকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট পার্কে বসবাস করছেন।