রুমী খোন্দকার, পাবনা প্রতিনিধি
করোনা পাবনার তাঁতবস্ত্র শিল্পকে লোকসানের দিকে ঠেলে দিয়েছে। মূলধনের অভাবে এ অঞ্চলের বেশির ভাগ তাঁত বন্ধ হওয়ায় কাজ হারিয়ে ২০ হাজার তাঁতশ্রমিক পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সবচেয়ে বড় মৌসুম বাংলা নববর্ষ আর ইদুলফিতরের বাজারে উত্পাদিত কাপড় বিক্রি করতে পারেননি তাঁতিরা। ভেবেছিলেন ইদুল-আজহার বাজারে পুষিয়ে নেবেন। কিন্তু সামনের ঈদবাজারও নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আর তাই ইদুল-আজহাকে ঘিরেও জেলার তাঁতিদের কোনো ব্যস্ততা নেই।
পাবনা নতুনপাড়া গয়েশপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুল করিম বলেন, করোনার এই দুঃসময়ে তাঁতিরা কোনো সহযোগিতা পাননি। সাঁথিয়ার প্রবীণ তাঁতশ্রমিক নজরুল ইসলাম বলেন, মহাজন বলেছেন—গুদামের অবিক্রিত কাপড় বিক্রি না হলে শ্রমের টাকা দেওয়া যাবে না। পিপুলিয়া গ্রামের তাঁতি দেলোয়ার হোসেন ঋণ নিয়ে ৪০টি তাঁত কিনেছিলেন। তিনি বলেন, ব্যবসা না থাকায় তাঁত বিক্রি করে ব্যাংক সুদের টাকা জোগাড় করতে হবে।
পাবনার বেড়ার পাইকারি কাপড় ব্যবসায়ী শহিদ আলী জানান, করোনা ভাইরাস বিস্তারের আগে ভারতের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী পাবনা থেকে হাজার হাজার পিস শাড়ি ও লুঙ্গি কিনে ভারতের বিভিন্ন জেলার নামিদামি শপিংমল, বিপণিবিতান ও ছোট-বড় পাইকারদের কাছে বিক্রি করতেন। করোনা ভাইরাসের কারণে গত চার মাস ভারতে শাড়ি ও লুঙ্গি রপ্তানি বন্ধ আছে। এতে ব্যবসায়ী এবং কারখানার মালিকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রতিবছর ইদুল-আজহাকে ঘিরে বাহারি নানা ডিজাইনের কাপড় বুনতে নির্ঘুম সময় পার করত শ্রমিকরা। দিনরাত পরিশ্রম করে তাঁতের কাজে ব্যস্ত থাকতেন নারী-পুরুষ ও শিশু থেকে সবাই। এখন আর তেমন খটখটানি শব্দ নেই। করোনায় তাঁতপল্লি জুড়ে এক ধরনের নীরবতা ও বিষণ্নতা বিরাজ করছে।
পাবনা জেলা তাঁতি সমবায় সমিতির সভাপতি কামরুল আনান রিপন জানান, করোনা এবার তাঁতিদের কাপড় উত্পাদন এক রকম থামিয়ে দিয়েছে। অনেক কাপড় অবিক্রিত অবস্থায় তাদের গুদামে পড়ে আছে। পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, এখন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ের পেশাজীবীদের সহযোগিতা করা হচ্ছে না। তবে স্থানীয় উপজেলা-ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতা অব্যাহত আছে।