টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকের চালান নিয়ে অনুপ্রবেশকালে সীমান্তরক্ষী বিজিবি জওয়ানদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বালুখালী ও কুতুপালং ক্যাম্পের দুই রোহিঙ্গা মাদক কারবারি নিহত হয়েছে। এ সময় বিজিবির আরো দুই জওয়ান আহত হয়েছেন।
সূত্র জানায়, ৬ জুলাই (সোমবার) রাতের প্রথম প্রহরের দিকে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের হ্নীলা বিওপির একটি বিশেষ টহল দল হোয়াব্রাং সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মাদকের চালান খালাসের সংবাদ পেয়ে অভিযানে যায়। কিছুক্ষণ পর তিন-চার জনকে বস্তা নিয়ে নাফ নদী থেকে কিনারায় আসতে দেখে বিজিবি জওয়ানেরা চ্যালেঞ্জ করলে মাদক কারবারি গ্রুপের সদস্যরা বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এতে ল্যান্স নায়েক মো. আব্দুল কুদ্দুস ও নায়েক শাকের উদ্দিন আহত হলে বিজিবি জওয়ানরাও আত্মরক্ষার্থে কিছুক্ষণ পালটা গুলি ছোড়েন। এতে মাদক কারবারিদের কয়েক জন গুলি ছুড়তে ছুড়তে কেওড়া বাগান হয়ে পালিয়ে যায়।
এরপর পরিস্থিতি শান্ত হলে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ৫০ হাজার ইয়াবা, একটি চায়না পিস্তল ও তাজা দুই রাউন্ড কার্তুজসহ উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ৫ নম্বর ক্যাম্পের ব্লক-জি-২/ই-এর শেড নম্বর ৪৫১২৮৪-এর বাসিন্দা মো. শফির পুত্র মো. আলম (২৬) এবং ২ নম্বর বালুখালীর ১৮ নম্বর ক্যাম্পের ব্লক নম্বর কে/৩-এর বাসিন্দা মো. এরশাদ আলীর পুত্র মো. ইয়াছিনকে (২৪) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে। আহত বিজিবি ও গুলিবিদ্ধ মাদক কারবারিদের দ্রুত চিকিত্সার জন্য টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আহত সবাইকে চিকিত্সা দেওয়ার পর গুলিবিদ্ধ মাদক কারবারিদের আরো উন্নত চিকিত্সার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নিয়ে গেলে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তারা মারা যায়। তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারার পৃথক আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফয়সল হাসান খান (পিএসসি) নিশ্চিত করেন।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে মুখোশের আড়ালে কমিশনভোগী চক্র তত্পর থাকায় সরকারের শত চেষ্টার মধ্যেও মাদক চোরাচালান থামানো যাচ্ছে না। তাই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকা এসব অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।